ঢাকা | রবিবার | ১লা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৬ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ১২ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

রাশিয়ার পক্ষে লড়ছে ১৭৫০ এর বেশি আফ্রিকান সেনা: ইউক্রেন

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পরিস্থিতিতে রুশ বাহিনীর পক্ষে লড়াই করছে সৌদি আরবসহ বিভিন্ন আফ্রিকার দেশের অন্তত ১৭৫০ এর বেশি সেনা। এই তথ্য জানান ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সাইবিহা। গতকাল বুধবার রাজধানী কিয়েভে ঘানার পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্যামুয়েল ওকুদজেতো আবলাকাওয়ার সঙ্গে বৈঠক শেষে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই দাবি করেন।

সাইবিহা বলেন, ‘আমরা স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করছি যে, রাশিয়া বিভিন্ন প্রতারণাপূর্ণ কৌশলে আফ্রিকার নাগরিকদের এই যুদ্ধের সঙ্গে জড়িয়ে দিচ্ছে। আমাদের কাছে থাকা তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে আফ্রিকার ৩৬টি দেশের হাজারো যুবক রুশ বাহিনীর পাশে যুদ্ধ করছে।’ তিনি আরও জানান, এই সেনাদের অনেককেই চাকরি বা অন্য প্রলোভনে রাশিয়ায় আনা হয়েছে এবং পরে সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এ ধরনের বেশ কিছু ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এদিকে, সংবাদ সম্মেলনে ঘানার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওকুদজেতো আবলাকাওয়া বলেন, রুশ বাহিনীতে যেসব আফ্রিকান সেনা লড়াই করছে, তাদের কোনও পূর্বঅভিজ্ঞতা নেই। তারা সাধারণত চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বা প্রতারণার মাধ্যমে রাশিয়ায় নেয়া হয়েছে। এরপর তাদের সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘অধিকাংশ আফ্রিকান সেনার কখনও কোনো নিরাপত্তা বাহিনী বা সেনাবাহিনীতে কাজ করার অভিজ্ঞতা নেই, কোনও প্রশিক্ষণও পায়নি। লোভে পড়ে তারা প্রতারণার শিকার হন এবং শেষ পর্যন্ত সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত হন।’

সংবাদ সম্মেলনে ওকুদজেতো আবলাকাওয়া আরও জানান, আফ্রিকার যুবকদের রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অংশ হওয়ার থেকে বিরত রাখতে ঘানা ও এশিয়ার দেশের অন্যান্য সদস্য দেশগুলোকে নিয়ে গঠিত আফ্রিকান ইউনিয়ন কাজ করে যাবে।

উল্লেখ্য, রাশিয়া ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারির শেষে ক্রিমিয়া উপদ্বীপকে রুশ ভূখণ্ড হিসেবে স্বীকৃতি দেয় এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই স্বীকৃতি মানতে অস্বীকৃতি জানায়। এরপর থেকেই কিয়েভের সঙ্গে টানাপোড়েন চলতে থাকে। ওই বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারিতে রুশ বাহিনী ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করে, যা এখনও অব্যাহত রয়েছে। এই অভিযান শুরু করেছিলেন রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন।