ঢাকা | সোমবার | ২রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ১৩ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলকে দেশের একটি আদালত যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে। এই রায়ের মধ্য দিয়ে তাকে ২০২৪ সালে সামরিক আইন জারির ব্যর্থ প্রচেষ্টার জন্য দোষী সাব্যস্ত করা হয়, যা তিনি রাষ্ট্রদ্রোহের মূল অভিযোগের আওতায় করেছেন। একইসঙ্গে তার কারাদণ্ডের সঙ্গে সামরিক প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাবেক মন্ত্রী কিম ইয়ং-হিউনকেও ৩০ বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সিউল সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের তিন বিচারকের প্যানেল এই রায় ঘোষণা করেন। শুনানিতে জানা যায়, তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা এবং বর্তমান প্রেসিডেন্ট লি জে মোংকে সামরিক বাহিনীর মাধ্যমে আটক করার জন্য নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগেও ইউনকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।

প্রসিকিউটররা এই মামলায় সাবেক প্রেসিডেন্টের দণ্ড হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের জন্য আবেদন করেছিল, তবে আদালত বোঝে ৬৫ বছর বয়সী ইউন ইওলকে আজীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেন।

অপরদিকে, একই মামলায় সাবেক গোয়েন্দা প্রধান রোহ সাং-উনকে ১৮ বছর, সাবেক পুলিশ প্রধান চো জি-হোকে ১২ বছর, সিউল মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক প্রধান কিম বং-সিককে ১০ বছর এবং ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি পুলিশ গার্ডের সাবেক প্রধান মোক হিউন-তায়েকে তিন বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্ত সবাই এক সপ্তাহের মধ্যে আপিল করতে পারবেন বলে আদালত জানিয়েছে।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি, দেশের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লি সাং-মিনকেও ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সামরিক আইন জারির ব্যর্থ প্রচেষ্টার জন্য সাত বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ৬১ বছর বয়সী লি কেএনপি-র পুলিশের পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিসকে সরকারের সমালোচক মিডিয়া ও গণমাধ্যমের বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার নির্দেশ দেওয়ার জন্য দোষী সাব্যস্ত হন।

এছাড়াও, জানুয়ারিতে দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী হান ডাক-সুককে ২৩ বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তিনি সামরিক আইন জারির কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন এবং এই মামলার দ্বিতীয় মন্ত্রী হিসেবে দণ্ডিত হয়েছেন।

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৩ ডিসেম্বর প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওল শক্তিশালী ও প্রচণ্ড বিতর্কিতভাবে সামরিক আইন জারির ঘোষণা দেন। তবে ব্যাপক প্রতিবাদের মুখে একই দিন সন্ধ্যায় মাত্র ছয় ঘণ্টার মধ্যে সেই ঘোষণা প্রত্যাহার করতে বাধ্য হন। এই ঘটনার পর, ১৪ ডিসেম্বর, ইউনকে পার্লামেন্টে অভিশংসন করা হয় এবং তার সাময়িক পদচ্যুতি ঘটে। এরপর, ১৫ জানুয়ারি তাকে গ্রেফতার করা হয়। এর মধ্যে দিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার রাজনৈতিক পরিস্থিতি ব্যাপক আলোচনার কেন্দ্রে পরিণত হয়। সূত্র: রয়টার্স