ঢাকা | রবিবার | ২৬শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১২ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

দুর্নীতি করব না, সহ্যও করব না: জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান

রোববার (২৫ জানুয়ারি) রাজধানীর ধূপখোলা মাঠে অনুষ্ঠিত এক বিশাল জনসভায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের আমির ডা. শফিকুর রহমান দাবি করেছেন, ক্ষমতায় এলে তারা কোনো প্রকার দুর্নীতি করবে না এবং দুর্নীতিকে সহ্যও করবে না। প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি বলেন, ‘‘আমরা এই দেশ লুটেপুটে খাওয়ার জন্য মসনদে বসতে চাই না; আমরা ১৮ কোটি মানুষের বিজয় নিশ্চিত করতে চাই।’’

প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের সমালোচনা করে ডা. শফিকুর বলেন, ‘‘একটি দল বলছে তারা দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করবে, অথচ তাদের ৩৯ জন সংসদ সদস্য প্রার্থীরই ঋণখেলাপি হওয়া সন্দেহ আছে; কিভাবে তারা দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করবে?’’ তিনি সমালোচনার তীব্রতা বাড়িয়ে বলেন, তাদের কায়দা করে প্রার্থী করা হয়েছে বলে দাবি করেন।

নিজের এক পূর্বোক্ত বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘‘আমার একটি মন্তব্য নিয়ে তোলপাড় হয়েছিল। আমি বলেছিলাম—এক জালিমকে বিদায় করে আর এক জালিমকে হাতে দেশ তুলে দেয়া মানুষ চায় না। আজ কি আমার সেই কথাই মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে?’’

ভোটের দিন কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সহ্য করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি। তিনি বলেন, ‘‘আগামী ১২ তারিখে যদি কোনো দুর্বৃত্ত ভোট বাক্সে হাত দেওয়ার চেষ্টা করে, তাহলে জনগণের সহায়তায় তাদের হাত গুঁড়িয়ে দেয়া হবে।’’

দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়ে ডা. শফিকুর বলেন, ‘‘সম্প্রতি বিভিন্ন দিক থেকে কিছু উৎপাত দেখা যাচ্ছে। যখন বাংলাদেশি জনগণ স্বাধীনতায় তার পথ নির্ধারণ করতে যাচ্ছে, তখন বহিরাগতরা আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে প্রকাশ্যে হস্তক্ষেপ করছে। আমরা বিনয়ের সঙ্গে কিন্তু শক্ত কণ্ঠে অনুরোধ করব—মেহেরবানী করে আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে আর নাক গলাবেন না। এতদিন নাক গলিয়ে যে তরল পদার্থ বের হয়েছে, তা টিস্যু দিয়ে সামলে নিন; আর নাক গলানো বন্ধ করুন। বাংলাদেশ ইনশাআল্লাহ মাথা উঁচু করে বিশ্বদরবারে দাঁড়াবে।’’

তিনি জানান, সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রাখতে চান, তবে কারো আধিপত্য মেনে নেয়া হবে না। ‘‘আমরা দেশের বিষয়ে কোনো বিদেশি শক্তির নাক গলানো মেনে নেব না,’’ যোগ করেন জামায়াত আমির।

জুলাই ধর্মযুদ্ধ/সঙ্ঘর্ষ—যে আন্দোলন বোঝানো হয়েছে—কে কোনো ব্যক্তির সম্পদ বলে দেখতে নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ‘‘জুলাই ১৮ কোটি মানুষের। কাউকে এককভাবে এই যুদ্ধের ‘মাস্টারমাইন্ড’ বলা হলে শহীদদের অবমাননা হয়। এই সংগ্রামের মাস্টারমাইন্ড ছিল দেশের ১৮ কোটি মানুষ।’’

সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি আবেদন করেন—দোয়া ও ভালোবাসা দিয়ে, ভোট দিয়ে তাদের একটা সুযোগ দেন। তিনি আশ্বাস দেন, ‘‘আল্লাহতে ভরসা রাখুন। আমরা চাঁদা নেব না, চাঁদা নিতে দেবও না। আমরা বলেছি—দুর্নীতি আমরা করব না, দুর্নীতি আমরা সহ্যও করব না।’’