ঢাকা | সোমবার | ২রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ১৩ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

চিত্রনায়িকা জয়শ্রী কবির আর নেই

দুই বাংলার জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা জয়শ্রী কবির আর নেই। তিনি ১২ জানুয়ারি যুক্তরাজ্যের লন্ডনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর।

মৃত্যুর সংবাদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান তার ভাগ্নে জাভেদ মাহমুদ। তিনি বলেন, “আমার মামি, এককালের খ্যাতনামা নায়িকা জয়শ্রী কবির লন্ডনে মারা গেছেন। উনি সত্যজিৎ রায়ের চলচ্চিত্র ‘প্রতিদ্বন্দ্বী’-এ ও আলমগীর কবির পরিচালিত ‘সীমানা পেরিয়ে’, ‘রুপালী সৈকতে’, ‘সূর্য কন্যা’ প্রভৃতি ছবিতে নায়িকা ছিলেন।”

জয়শ্রী কবিরের মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনও জানা যায়নি। তবে জাভেদ মাহমুদ জানিয়েছেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে লন্ডনে অসুস্থ ছিলেন।

জয়শ্রী কবির বহু বছর লন্ডনে বসবাস করছিলেন। সেখানে তিনি এক বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্য বিভাগে শিক্ষকতা করতেন। প্রায় এক দশক আগে তিনি ঢাকায় কয়েকবার এসেছিলেন; এরপর থেকে বাংলাদেশের কাঁধে তাকে আর দেখা যায়নি।

জয়শ্রী কবিরের জন্ম ১৯৫২ সালে কলকাতায়। পারিবারিক নাম জয়শ্রী রায়। শৈশব-কৈশোর Kolkata-তেই কেটেছে; তিনি সাউথ পয়েন্ট স্কুলে পড়াশোনা করেন। ১৯৬৮ সালে ‘মিস ক্যালকাটা’ হিসেবে খেতাব অর্জন করে মিডিয়া ও বিনোদন জগতে মনোযোগ আকর্ষণ করেন।

চলচ্চিত্রে তার অভিষেক ঘটে ১৯৭০ সালে সত্যজিৎ রায়ের ‘প্রতিদ্বন্দ্বী’ চলচ্চিত্রে। পরে ১৯৭৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘অসাধারণ’ ছবিতে উত্তম কুমারের সঙ্গে অভিনয় করেন। পরবর্তীতে তিনি বাংলাদেশি চলচ্চিত্রে নিয়মিত কাজ করতে শুরু করে জনপ্রিয়তা পান এবং আলমগীর কবির পরিচালিত বেশ কয়েকটি ছবিতে প্রধান নায়িকা হিসেবে অভিনয় করেন। উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রগুলো হলো ‘সীমানা পেরিয়ে’, ‘রুপালী সৈকতে’, ‘সূর্য কন্যা’ ও ‘মোহনা’।

ব্যক্তিগত জীবনে ১৯৭৫ সালে আলমগীর কবিরের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন জয়শ্রী। এ বিবাহ দীর্ঘস্থায়ী হয়নি; প্রায় তিন বছরের মধ্যে দাম্পত্যে অনৈক্য সৃষ্টি হয় এবং পরে বিবাহ বিচ্ছেদের মাধ্যমে তারা আলাদা হন। তাদের সংসারে একটি পুত্র সন্তান রয়েছে—লেনিন সৌরভ কবির।

বিচ্ছের পর জয়শ্রী প্রথমে কলকাতায় ফিরে যান, এরপর জীবনের একপর্যায়ে লন্ডন পাড়ি জমান এবং সেখানে ছেলে লেনিনকে নিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন।

চলচ্চিত্র ও সাহিত্য প্রেক্ষাপটে দুই বাংলার একটি সময়ে আলোচিত মুখ ছিলেন জয়শ্রী কবির। তার নান্দনিক উপস্থিতি ও অভিনয়শৈলী দর্শক-সমালোচকদের মধ্যে বিশেষ ছাপ রেখে গিয়েছে। পরিবারের প্রতি আমাদের সহমর্মিতা ও শ্রদ্ধা থাকবে।