ঢাকা | রবিবার | ২৬শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১২ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

পাকিস্তানের করাচিতে অগ্নিকাণ্ডে নিহতের সংখ্যা দাঁড়াল ৬১

পাকিস্তানের বাণিজ্যিক রাজধানী করাচির অন্যতম ব্যস্ত শপিং কমপ্লেক্স গুল প্লাজায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এই পর্যন্ত ৬১ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত ১৫ জনের পরিচয় জানা গেছে, শীঘ্রই অন্যদের পরিচয় জানাতে চেষ্টা চলছে।

করাচির দক্ষিণ জোনের উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক আসাদ রাজা জানান, বুধবার এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, গুল প্লাজার দ্বিতীয় তলায় Dubai Crockery নামের একটি দোকান থেকে ৩০ জনের দগ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। অগ্নিদগ্ধরা সবাই দোকানটির ভেতরে ছিলেন। উদ্ধারকাজ চলাকালীন এই ৩০ জনের মধ্যে ১৫ জনের পরিচয় জানা গেছে, বাকিদের সন্ধানে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ ও উদ্ধারকারীরা।

তিনি আরও জানান, এই ঘটনার ফলে গুল প্লাজায় মোট মৃতের সংখ্যা এখন ৬১। পাশাপাশি এখনও ৪০ জনের বেশি লোক নিখোঁজ রয়েছেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

সম্প্রতি, ১৭ জানুয়ারি শনিবার এই দুর্ঘটনা ঘটে যখন গুল প্লাজার বেসমেন্টে আগুন ওঠে, যা দ্রুত পুরো পাঁচতলা শপিং কমপ্লেক্সে ছড়িয়ে পড়ে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত। আগুনের ভয়ঙ্কর আকারে বিস্তার ঘটায় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের ২৪ ঘণ্টা কঠোর পরিশ্রমের পর পরিস্থিতি দমন সম্ভব হয়।

উচ্চতর বয়সের এই ৫তলা ভবনটি নির্মাণ হয় ১৯৮০ সালে। এর আয়তন একটি ফুটবল মাঠের চেয়ে বড়, যেখানে প্রায় ১ হাজার ২ শ’ দোকান রয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের কারণে বেশিরভাগ দোকানই ভস্মীভূত হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের অনুযায়ী, এত বড় ধরনের আগুন এত আগে কখনো দেখা যায়নি যা করাচিতে এর আগে সংঘটিত হয়নি।

ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের সূত্রে জানা যায়, হতাহত ও নিখোঁজের সংখ্যা এত বেশি হওয়ার অন্যতম কারণ হলো গুল প্লাজার নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথেষ্ট নরম ছিল। করাচি ফায়ার সার্ভিসের একজন কর্মকর্তা জানান, গুল প্লাজায় মোট ২৬টি গেট বা ফটক ছিল, কিন্তু তার মধ্যে মাত্র ২টি খোলা থাকতো। আগুনের সময়ও অধিকাংশ গেট বন্ধ থাকায় বহু মানুষ কমপ্লেক্সের ভিতরে আটকা পড়েন। এছাড়া, মার্কেটের অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রও কাজের অবস্থায় ছিল না।

বুধবারের ব্রিফিংয়ে উপ-পুলিশ মহাপুরিদর্শক আসাদ রাজা বলেন, ‘প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, আগুনের সময় দোকানের শাটার বন্ধ ছিল, যা নিহতের অন্যতম কারণ। মৃতের মধ্যে দোকানের মালিক ও কর্মচারীরাও রয়েছেন।’ তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, গুল প্লাজায় এই অগ্নিকাণ্ডে নিহতের সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে।

করাচির পুলিশপ্রধান ও পুলিশ কমিশনার সৈয়দ হাসান নাকভি জানিয়েছেন, সিন্ধ রাজ্য সরকার একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। এই কমিটি ইতোমধ্যে জায়গায় গিয়ে পরিস্থিতি পরিদর্শন করেছে ও তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। সূত্র: এএফপি