ঢাকা | মঙ্গলবার | ৩রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৮ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ১৪ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

টিআইবি: ত্রয়োদশ নির্বাচনে ইসলামপন্থি প্রার্থীর সংখ্যা চোখে পড়ার মতো বেড়েছে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইসলামপন্থি রাজনৈতিক দলগুলো থেকে প্রার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়েছে বলে জানিয়েছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ডা. ইফতেখারুজ্জামান। তাঁর ভাষ্য, মোট প্রার্থীর কাছাকাছি ৩৬ শতাংশের বেশি একই ধরনের দল থেকে এসেছে—গত পাঁচ নির্বাচনের মধ্যে এটি সর্বোচ্চ হার।

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে টিআইবির আয়োজিত ‘নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের হলফনামা বিশ্লেষণ’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই তথ্য তুলে ধরেন।

ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে অর্থ, পেশি ও ধর্ম একসঙ্গে মিশে যাওয়ায় সুষ্ঠু রাজনৈতিক প্রক্রিয়া ঝুঁকিতে পড়ছে। ‘‘ক্রমশ সুস্থ রাজনৈতিক ধারার জায়গা সংকুচিত হচ্ছে; অসুস্থ রাজনীতির ধারক–বাহকরা সেই খালি জায়গা দখল করে নিচ্ছে,’’ তিনি মন্তব্য করেন।

প্রার্থী ও সম্পদ সংক্রান্ত কিছু সমস্যার ওপরও মনোনিবেশ করেন তিনি। তিনি জানান, কৃষি জমির ক্ষেত্রে একজন ব্যক্তির ৫০ একরের বেশি জমি রাখতে পারার কথা নয়; কিন্তু এই সীমা লঙ্ঘন করলে প্রার্থিতা বাতিলের সুনির্দিষ্ট আইনগত বিধান এখনো আমাদের জামানত আইন বা নির্বাচনশাসনতন্ত্রে নেই। সে কারণে সরাসরি কোনো পদক্ষেপ নিতে টিআইবি সীমাবদ্ধতা দেখছে। তবু তিনি অনুরোধ করেন, যে কেউ বৈধ সীমা লঙ্ঘন করেছে তাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। তাঁর ব্যক্তিগত মতামত, অবৈধভাবে অধিক জমির মালিক যারা হয়েছেন তাদের অতিরিক্ত সম্পদ ও জমি রাষ্ট্র বাজেয়াপ্ত করে রাজনৈতিকভাবে ভূমিহীণদের মধ্যে পুনর্বণ্টন করার সুপারিশ রয়েছে।

টিআইবির দেওয়া তথ্যে বলা হয়েছে, এ নির্বাচনে মোট ৫১টি রাজনীতিক দল অংশ নিয়েছে এবং চূড়ান্ত প্রার্থীর সংখ্যা ১,৯৮১ জন। এছাড়া প্রার্থীদের মধ্যে প্রায় ১৩ শতাংশই স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন।

নারী প্রার্থীর অংশগ্রহণ সম্পর্কে তিনি বলেছিলেন, ‘‘প্রতিবারের মতো এবারও নারী প্রার্থীদের অংশগ্রহণ নগণ্য। জুলাই মাসে প্রস্তাবিত পাঁচ শতাংশ নারী প্রার্থীর লক্ষ্য কোনো রাজনৈতিক দলই পূরণ করতে পারেনি।’’

অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী প্রার্থীর সংখ্যা নিয়েও টিআইবি উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। অস্থাবর ও স্থাবর সম্পদের বর্তমান মূল্য অনুসারে কোটিপতি প্রার্থীর সংখ্যা ৯৫১ জন। অন্য একটি পরিমাপে ২৭ জনকে শতকোটিপতি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

আনমতে দু’জন প্রার্থীর বিষয়ে টিআইবির কাছে বৈধ দ্বৈত নাগরিকতার তথ্য অনুসারে তারা বিদেশি নাগরিকত্বধারী বলে সন্দেহ আছে, কিন্তু তারা হলফনামায় তা উল্লেখ করেননি; টিআইবি দাবি করেছে তারা ব্রিটিশ নাগরিক। এক প্রার্থীর নিজের বিদেশি সম্পদের তথ্য না থাকলেও তাঁর স্ত্রীর নামে দুবাইয়ে একটি ফ্ল্যাটের মালিকানার তথ্যও প্রমাণ হিসেবে উঠে এসেছে।

সংবাদ সম্মেলণে আরও উপস্থিত ছিলেন টিআইবি পরিচালক মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম, সহকারী কো-অর্ডিনেটর কে এম রফিকুর আলম, ডেপুটি কো-অর্ডিনেটর জাফর সাদিক ও সহকারী কো-অর্ডিনেটর রিফাত রহমান।