ঢাকা | রবিবার | ২৬শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১২ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

খুলনা-৩ আসনকে বৈষম্যহীন ও আধুনিক জনপদে রূপান্তর করতে চাই

খুলনা-৩ আসনের ধানের শীষ প্রার্থী কেন্দ্রীয় বিএনপি’র ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল বলেছেন, মানুষের সেবা করতে গিয়ে কখনো দল বা মতের পার্থক্য বিবেচনা করেননি। করোনাকালীন সময়ে যখন কেউ দাফন-কাফনে এগোতে সাহস পায়নি, তখন তিনি ঘরে ঘরে অক্সিজেন, খাবার এবং চিকিৎসা সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার জন্য কাজ করেছেন। তিনি বলেন, এখানে কখনো দলীয় শত্রুতা বা বিভেদ ভাবেননি, বরং মানুষের জন্য সবসময় কাজ করে যাব। ভবিষ্যতেও খুলনা-৩ আসনকে বৈষম্যহীন, আধুনিক ও উন্নত জনপদে রূপান্তর করতে তিনি দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ। বৃহস্পতিবার দুপুরে নগরীর মহাশ্বরপাশা ১নং ওয়ার্ডের সুধী সমাজ আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

বকুল আরো বলেন, তিনি খালিশপুর, দৌলতপুর ও খানজাহান আলী থানায় নিযুক্ত হয়ে মানুষের পাশে থাকতে পেরে গর্ববোধ করেন। তাঁর রাজনৈতিক জীবন কালে কোন ধরনের অনিয়ম, চাঁদাবাজি বা অবৈধ সম্পদ অর্জনের কথা কেউ বলতে পারবে না। তিনি বলেন, টাকার অভাবে কেউ চিকিৎসা বা শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত হোক, এটা তিনি কখনো মেনে নেবেন না। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের জন্য মুক্তির সনদ হিসেবে দেখা হয়, ট্র্যাক রেহমান ঘোষিত ৩১ দফা, যা নতুন বাংলাদেশ গড়ার জন্য মুক্তির পথ। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের ঠিক আগে এই মূলনীতি ঘোষণা করা হয়। তিনি বলেন, আমরা বিভেদ-পরিহারী রাজনীতি চাই, যা ধর্ম-বর্ণ বা নির্বিশেষে সকলের জন্য নিরাপদ, মানবিক ও আধুনিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে।

খুলনা-৩ এর অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে বকুল বলন, শহরটি আজ এক গভীর অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে। ২৬টির বেশি জুট মিল ও কলকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে, ফলে হাজারো শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন। ব্যবসায়ীরা আতঙ্কে রয়েছেন। যদি এই আসনে নির্বাচিত হয়, তাহলে বন্ধ কারখানা আবার চালু করার জন্য উদ্যোগ নেবেন। সাথে ১০ লক্ষের বেশি মানুষ বসবাস করে এমন এই অঞ্চলে এক আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

আরো তিনি জানিয়ে দেন, দ্রুত একটি মহিলা ক্যাডেট কলেজ স্থাপন করা হবে। চরেরহাটের মাঠকে মিনি স্টেডিয়ামে রূপান্তর করার পরিকল্পনা রয়েছে। বয়োজ্যেষ্ঠ নাগরিক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও ইভটিজিংমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতেই তার লক্ষ্য। সভায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোঃ শরিফুল ইসলাম, কুয়েটের সাবেক প্রো-ভিসি শেখ আবসালাম, মুক্তিযোদ্ধা চান মিয়া হাওলাদার, জিয়াউল ইসলাম মিঠু, শ্যামল কুমার দাস, ডাঃ কাজী নেছার উদ্দিন আহমেদ মন্টু, আলহাজ্ব মোহাম্মদ সোবহান শরীফ, যশোর বোর্ডের সাবেক কন্ট্রোলার অধ্যাপক সাধন চন্দ্র রুদ্র, মোঃ সিরাজ মোল্লা, সৈয়দ কামরুল ইসলাম, ইঞ্জিনিয়ার শেখ শাহির হোসেন জামু, মোঃ সেলিম রেজা ও অধ্যাপক শফিকুল আলম মুন্সী। সভার সভাপতিত্ব করেন বিজেএ’র সাবেক সভাপতি মোঃ ফজলুর রহমান শরীফ এবং সঞ্চালনায় ছিলেন বিশিষ্ট সমাজসেবক ও সাবেক জাতীয় ফুটবলার কাজী নাসিবুল হাসান সান্নু। এই সভায় স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।