ঢাকা | মঙ্গলবার | ২৮শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৫ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১১ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

সমাবেশে নিহতদের পরিবারকে ২০ লাখ রুপির ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছেন থালাপতি বিজয়

ভারতের তামিলনাড়ুর চেন্নাইতে অনুষ্ঠিত তামিলাগা ভেটরি কাজাগমের (টিভিকে) জনসভায় পদদলিত হয়ে অনেক মানুষের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এই মর্মান্তিক ঘটনার জন্য দেশটির জনপ্রিয় অভিনেতা এবং রাজনীতিবিদ থালাপতি বিজয় তার নিহতদের পরিবারকে ২০ লাখ রুপির সান্তনা বরাদ্দের ঘোষণা দিয়েছেন। পাশাপাশি, সমাবেশে আহত অন্তত ১০০ ব্যক্তিকে তিনি প্রত্যেককে ২ লাখ রুপি করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। এই খবর বিভিন্ন ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। 

শনিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, এই ভয়াবহ ঘটনা ঘটে। এখন পর্যন্ত পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই দুর্ঘটনায় মোট ৩৯ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে নারী ১৮ জন, পুরুষ ৯ জন এবং শিশু ১০ জন রয়েছে বলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মা সুব্রমানিয়ান নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশের সূত্র জানায়, ওই দিন জনসভায় থালাপতি বিজয় মঞ্চে ওঠার কিছুক্ষণ পরই সেখানে উপস্থিত ভিড়ের কারণে পরিস্থিতি চরমভাবে অবনতির দিকে যায়। দর্শকরা মঞ্চের ব্যারিকেডের দিকে এগিয়ে যান, সেই সময় দমবন্ধ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় এবং অনেকের জ্ঞান হারানোর ঘটনা ঘটে। এ সময় হুড়িয়ে যাওয়া জনতাই পদদলনের ঝুঁকি তৈরি করে। মূলত, মানুষের ভিড় এত বেশি ছিল যে, জনসভায় অনুমিত মতের চেয়েও দ্বিগুণের বেশি ৬০ হাজার মানুষ উপস্থিত হয়েছিলেন। ফলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

ওই দিন রাত ৮টার অর্ধেকের দিকে, বিপুলসংখ্যক ব্যক্তি যেন একটি মহাযাত্রায় অংশ নেয়ার মতো মঞ্চের ব্যারিকেডের দিকে ছুটে যান। এই সময়ে হুড়োহুড়ি ও জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, যার ফলে অনেকেই অচেতন হয়ে পড়েন। শিশু ও পরিবারের সদস্যরা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটে। পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবকরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার আগেই, পদদলনের খারাপ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুসারে, মঞ্চের চারপাশে যথেষ্ট ফাঁকা জায়গা না থাকায় অনেকে একত্রে জমা হয়ে যান, যা অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। এ পরিস্থিতিতে, যখন মূলত জনসভায় থালাপতি বিজয়কে দেখতে অনেক মানুষ জড়ো হন, তখন তাদের চাপে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়।

বলে রাখা উচিত, বিজয় যখন জনসভায় উপস্থিত হন, তখন প্রায় সাত ঘণ্টা দেরি হয়ে যায়। তার দেরির কারণে মানুষের মধ্যে আরো আগ্রহ ও ভিড় বৃদ্ধি পায়। সেই সঙ্গে পরিস্থিতি আর বেশি জটিল হয়ে ওঠে এবং ওই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ৩৯ হলেও, আরও মৃত্যুর আশংকা করা হচ্ছে। এই ঘটনার পূর্ণ তদন্ত ও নিরুপণ করা হচ্ছে।