প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, মিসইনফরমেশন, অপতথ্য ও ফেক ভিডিও ছড়িয়ে দেশের বহু নিষ্পাপ ও সম্মানিত মানুষকে হেয় করা হচ্ছে; এসব রোধে সরকার বদ্ধপরিকর। এ লক্ষ্যে আইনজীবী ও বিশেষজ্ঞদের একটি প্যানেল গঠনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সচিবালয়ের তথ্য অধিদপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান তিনি। অনুষ্ঠানে সরকারের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ উপস্থিত ছিলেন।
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে সাইবার বুলিং আর ডিজিটাল হেয়িং চলছে। জনগণকে সুরক্ষিত রাখা সরকারের দায়িত্ব; এজন্য প্রয়োজনীয় আইনি কর্মকাণ্ড গ্রহণ করা হবে এবং আইনশৃঙ্খলা কড়া করা হবে।
তিনি আরও বলেন, সরকার গুম বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডকে প্রশ্রয় দেবে না। কোনো ভুল কাজ বরদাশত করা হবে না বলে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে ডা. জাহেদ জানান, পলায়নকালে কাস্টমস ও ইমিগ্রেশন আইন ভঙ্গের দায়ে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মামলা হবে। একই সঙ্গে তিনি তুলে ধরেন, কেউ দায়িত্বসহন করতে না পারলে মন্ত্রিসভা বা উপদেষ্টা পরিষদে পরিবর্তন আনা হবে—এটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া এবং প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
কিছু অলিগার্কের স্বার্থরক্ষার কারণে দেশে গ্যাস উত্তোলনের প্রকল্পগুলো নিরলসভাবে নেয়া হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তবে তিনি আশ্বাস দেন, দেশের মজুত গ্যাস ব্যবহার করে আরও ২৫ বছর জ্বালানির চাহিদা মেটানো সম্ভব। এলডিসি (কম উন্নত দেশের শর্ত থেকে উত্তরণ) পরবর্তী প্রস্তুতির জন্য সরকার আরও তিন বছরের সময় চেয়েছে, যা ব্যবসায়ীদের ওপর চাপ কমাতে সহায়ক হবে।
আগামী আগস্ট থেকে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য পরীক্ষামূলকভাবে ‘প্রবাসী কার্ড’ কার্যক্রম শুরু করার কথা জানান তথ্যানুষ্ঠানের প্রধান। প্রথম ধাপে রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের মাধ্যমে ডুয়েল-কারেন্সি প্রবাসী ডেবিট কার্ড ইস্যু করা হবে।
অবশেষে, মাইলস্টোন বিমান দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ এখনো প্রদান না করতে পারা সরকারের ব্যর্থতা স্বীকার করে ডা. জাহেদ বলেন, এটি সরকারের দায় ও দোষ স্বীকার করছি—তবুও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে অবশ্যই ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।




