ঢাকা | বুধবার | ২২শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৮ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

৭৪ বছর পরে প্রথমবার: বিশ্বসুন্দরীর মঞ্চে পাকিস্তান

চলতি বছরের আগস্টের প্রথম সপ্তাহ থেকে সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত ভিয়েতনামে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিশ্বসুন্দরী (মিস ওয়ার্ল্ড) প্রতিযোগিতা। এতে পাকিস্তানের হয়ে অংশ নিতে যাচ্ছেন ২৪ বছর বয়সি অনিকা জমাল ইকবাল—যিনি ‘‘মিস ওয়ার্ল্ড পাকিস্তান’’ খেতাব জিতেছেন।

এই অর্জন পাকিস্তানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক: ইতিহাস অনুযায়ী দীর্ঘ ৭৪ বছর ধরে দেশের কেউ বিশ্বসুন্দরীর মূল মঞ্চে অংশ নেয়নি। পাশাপাশি ‘‘মিস পাকিস্তান ওয়ার্ল্ড অর্গানাইজেশন’’ জানিয়েছে, তাদের প্রতিষ্ঠান থেকেও ২৫ বছরের ভিক্ষরে এটাই প্রথমবার কেউ বিশ্বসুন্দরীর মঞ্চে যাচ্ছেন। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান সোনিয়া আহমেদ বলেন, এটি পাকিস্তানের জন্য এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত এবং দেশের প্রতিভাকে আন্তর্জাতিক দরবারে তুলে ধরার একটি বড় সুযোগ।

অনিকা নতুন করে কোন প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছেন না—তার আগে তিনি ‘‘মিস আর্থ’’, ‘‘মিস গ্লোবাল’’, ‘‘মিস কসমো’’, ‘‘মিস ইকো ইন্টারন্যাশনাল’’ ও ‘‘মিস অরা ইন্টারন্যাশনাল’’-এর মতো নানা সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন। বিশেষ করে কসমো প্রতিযোগিতায় তিনি ‘‘ফ্রিডম অব দ্য ওয়ার্ল্ড’’ বিভাগে চারটি খেতাব জিতেছেন।

শিক্ষার্থীরূপে অনিকার পড়াশোনা এখনও চলমান—তিনি পাকিস্তানের দানিস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অ্যাকাউন্টিং ও অডিটিং বিষয়ে স্নাতকোত্তর করছেন। মডেলিং এবং পেজেন্টের বাইরে অনিকা সমাজসেবায়ও সক্রিয়। তিনি ‘‘বিউটি উইথ পাপস’’ নামে একটি প্রকল্প চালান, যার মূল লক্ষ্য পাকিস্তানের থ্যালাসেমিয়া রোগীদের সহায়তা করা।

নিজের প্রকল্প ছাড়াও অনিকা লাহোরের বিভিন্ন দাতব্য সংস্থায় স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করেন; সাধারণত দীর্ঘমেয়াদি রোগে ভোগা রোগীদের পাশে থাকার কাজে তিনি যুক্ত থাকেন। তিনি জানিয়েছেন, বিশ্বসুন্দরীর মঞ্চ কেবল একটি সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা নয়—এটি মানুষের জন্য সচেতনতা তৈরি করে তহবিল সংগ্রহেরও একটি বড় কৌশল। তার প্রধান লক্ষ্যও এই মঞ্চকে কাজে লাগিয়ে থ্যালাসেমিয়া রোগীদের জন্য সাহায্য জোগাড় করা।

পাকিস্তানের মতো ধর্মীয়ভাবে সংবেদনশীল পরিবেশে মডেলিং পেশা বেছে নেওয়া চ্যালেঞ্জিং—মৌলবাদীদের আপত্তির আশংকা থেকে বিরত থাকা যায় না বলে অনিকা নিজেও মেনে নিয়েছেন। তবে তিনি এসব ভেবে সময় নষ্ট করছেন না; এখন তার পুরো মনোযোগ ভিয়েতনামে দেশের প্রতিনিধিত্ব করা ও নিজের সামাজিক কাজগুলোকে আরও দৃঢ় করে তুলে ধরা।

অনিকার পরিবারের সবাই তার উপর গর্বিত। তারা শৈশব থেকেই মেয়েটির এসব ইচ্ছেকে সম্মান করেছেন এবং কখনও চাপ তৈরি করেননি—এমনটাই অনিকার পরিবার জানিয়েছে। পাকিস্তান এখন অনিকার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেদের ভাবমূর্তি দেখাতে উদগ্রীব।