ঢাকা | বুধবার | ১৭ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২রা মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

স্পট মার্কেট থেকে দুই কার্গো এলএনজি আমদানির অনুমোদন

হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে চলমান ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষিতে দেশের জ্বালানি যোগান নিশ্চিত করতে স্পট মার্কেট থেকে দুই কার্গো এলএনজি আমদানি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১৭ জুন) অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়। সূত্র বলছে, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রস্তাব মোতাবেক পাবলিক প্রোকিউরমেন্ট বিধিমালা-২০২৫-এর বিধি ১০৫(৩)(ক) অনুযায়ী আন্তর্জাতিক কোটেশন (আরএফকিউ) পদ্ধতিতে তিন কার্গো এলএনজি ক্রয়ের প্রস্তাব আনা হয়; কিন্তু কমিটি আংশিকভাবে অনুমোদন দিয়ে দুই কার্গো কেনার সিদ্ধান্ত নেয়।

বৈঠকে বলা হয়, তিন কার্গো এলএনজি কেনার মোট প্রস্তাবিত ব্যয় ছিল প্রায় ২ হাজার ১১২ কোটি ৬০ লাখ ৩৩ হাজার ৬৩৪ টাকা (এআইটি-সহ)। অনুমোদিত দুই কার্গোর খরচ হবে প্রায় ১ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বৈঠকের পরে সাংবাদিকদের জানান, হরমুজ পথে চলমান সংকটের কারণে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় নির্ধারিত সময়ে অনেক চালান বাংলাদেশে পৌঁছাচ্ছে না। যুদ্ধ পরিস্থিতি ও পরিবেশিত ঝুঁকির কারণে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায়ই ‘ফোর্স মেজর’ ধারাটি প্রয়োগ করছে; ফলে সমযানুবর্তিতার ব্যাহত হওয়ায় স্পট মার্কেটের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, দেশের তাৎক্ষণিক জ্বালানি চাহিদা মেটাতে জুন মাস এবং জুলাইয়ের প্রথমদিকে দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি, কারণ এলএনজি কার্গো ক্রয়ের পর সেটি দেশে পৌঁছাতে ও খালাসে সময় লাগে। তাই নেতিবাচক গোলমাল এড়াতে দ্রুত দুই কার্গো মঞ্জুর করা হয়েছে।

তৃতীয় কার্গো কেনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি; আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দাম কিছুটা নিম্নমুখী হওয়ায় কয়েকদিন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে। যদি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় কোনো চালান সময়মতো পৌঁছে যায় অথবা বাজার স্থিতিশীল হয়, তাহলে অপ্রয়োজনীয় অতিরিক্ত ব্যয় এড়ানো যাবে। সরকারি অর্থ সাশ্রয়কেও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে, তাই এক কার্গোর ক্ষেত্রে অপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

স্পট মার্কেট থেকে কেনার মূল্য নির্ধারণে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রচলিত সূচক ও সম্প্রতি কয়েক মাসের গড় দামকে ভিত্তি হিসেবে ধরা হয় বলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সংকট ধীরে ধীরে স্থিতিশীল হতে পারে; তবে সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা আমাদের জ্বালানি আমদানির ব্যবস্থাপনা আরও পর্যালোচনার প্রয়োজনীয়তাও নির্দেশ করেছে।