ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৬ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

উদ্বোধনীতে শাকিরার লাইভ পারফর্ম্যান্সসহ বিশ্বকাপের আরও আকর্ষণ

কাউন্টডাউন শেষের দিকে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল উৎসব ২০২৬ বিশ্বকাপের পর্দা উঠছে আগামিকাল—মেক্সিকো, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার যৌথ আয়োজনে এ টুর্নামেন্ট ফুটবল ইতিহাসে নতুন অধ্যায় খুলছে। ৩২ দল থেকে বেড়ে এবার অংশ নিচ্ছে ৪৮ দেশ, আর সেই ঐতিহ্যবাহী মঞ্চ গ্রহণের জন্য আয়োজকেরা সাজিয়েছেন নজিরবিহীন ‘ত্রিমুখী উদ্বোধনী অনুষ্ঠান’।

ঊর্ধ্বতন জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে মেক্সিকো সিটির পুরনো প্রাচীন এস্তাদিও আসতেকা স্টেডিয়ামে। উদ্বোধনী ম্যাচটি একই স্টেডিয়ামে হবে, যেখানে স্বাগতিক মেক্সিকো মুখোমুখি হবে দক্ষিণ আফ্রিকাকে। বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় ম্যাচ শুরু হলেও উৎসব শুরু হয়ে যাবে তারও দেড় ঘণ্টা আগে—অর্থাৎ অনেক দর্শক ম্যাচ শুরুর আগে থেকেই আনন্দে ভাসবেন।

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো জানিয়েছেন, উদ্বোধনী মঞ্চে লাতিন সাংস্কৃতিক রঙের এক অভূতপূর্ব মিশ্রণ প্রদর্শিত হবে এবং সেখানে আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করা হবে ২০২৬ বিশ্বকাপের অফিশিয়াল মিউজিক অ্যালবাম। আয়োজকরা ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সঙ্গীতশিল্পীদের একটি লম্বা তালিকা প্রকাশ করেছে—এই তালিকায় আছেন আলেহান্দ্রো ফার্নান্দেজ, বেলিন্ডা, ড্যানি ওশেন, জে বালভিন, লিলা ডাউনস, লস অ্যাঞ্জেলেস আজুলিস, মানা এবং টাইলা। আয়োজকদের ইঙ্গিত অনুযায়ী শেষ মুহূর্তে আরও বড় কোনো নাম যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এবারের অফিসিয়াল থিম সং ‘দাই দাই’ এই মে মাসে মুক্তি পেয়েছে। ফিফা জানিয়েছে উদ্বোধনীতে নাইজেরীয় সুপরিচিত শিল্পী বার্না বয় (Burna Boy) আর পপ আইকন শাকিরা যৌথভাবে এই গানটি লাইভ পরিবেশন করবেন—শাকিরার জন্য এটি বিশ্বকাপ অফিশিয়াল গানে চতুর্থ অংশগ্রহণ হবে। এর আগের অংশগ্রহণগুলোতে তিনি ২০০৬ সালে ‘হিপস ডোন্ট লাই’, ২০১০ সালে ‘ওয়াকা ওয়াকা’ এবং ২০১৪ সালে ‘লা লা লা’ পরিবেশন করে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি ও সাড়া পেতেও সফল হয়েছেন।

শুধু উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেই নয়—ফাইনাল ম্যাচের হাফটাইম শো-তেও শাকিরা প্রধান আকর্ষণ থাকবেন। ১৯ জুলাই নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হাফটাইম শোতে তাঁর সঙ্গে মঞ্চ শেয়ার করবেন উগান্ডার প্রসিদ্ধ শিশু নৃত্যদল ‘ট্রিপলেটস গেটো কিডস’।

ত্রি-আয়োজক দেশে প্রথমত মেক্সিকোই উদ্বোধনী পর্বের সূচনা করছে; কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রে আলাদা করে বিশেষ উদ্বোধনী প্রদর্শনী হবে পরদিন। গতিশীল অনুষ্ঠান, স্টার পারফর্মার এবং মণ্ডিত রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক রঙ—এসব মিশিয়ে এবারের বিশ্বকাপ উদ্বোধন হবে ফুটবল ভক্তদের জন্য প্রত্যাশা ও উৎসাহের এক নতুন অধ্যায়।