ঢাকা | বুধবার | ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

নেইমারের চোট সারাতে ব্রাজিল ভরসা নাসার ‘অ্যান্টি-গ্র্যাভিটি’ ট্রেডমিল

বিশ্বকাপ শুরু হতে যাওয়া মুহূর্তে নেইমার জুনিয়র আবারও সময়ের সঙ্গে দৌড়েছে—এবার মাঠের ঘাসে নয়, নাসার উন্নত ‘অ্যান্টি-গ্র্যাভিটি’ ট্রেডমিলে। ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যম জিই জানিয়েছে, ডান পায়ের কাফ মাসলের (ডিম্বাকৃতি পেশি) গ্রেড-টু চোট সারাতে নেইমার এই প্রযুক্তির ওপর ভরসা করছেন।

শনিবার থেকেই তিনি ওই বিশেষ ট্রেডমিলে পুনর্বাসন শুরু করেছেন। এই যন্ত্রটি এমনভাবে কাজ করে যে হাঁটা বা দৌড়ানোর সময় পুরো শরীরের ওজন পায়ের ওপর পড়ে না; একটি বায়ুচাপ নিয়ন্ত্রিত আবরণ পায়ের চারপাশ আটকে রাখে এবং ধাপে ধাপে ওজন বাড়ানোর মাধ্যমে চিকিৎসকরা চাপ নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। ফলে চোটপ্রবণ অংশে অতিরিক্ত চাপ না দিয়ে খেলোয়াড় ধীরে ধীরে গতি, চলাফেরা ও স্বাভাবিক ছন্দ ফিরে পান।

স্পোর্টস মেডিসিনে এই প্রযুক্তি এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ব্যবহার হলেও নেইমারের ক্ষেত্রে তা বিশেষভাবে নজরকাড়া হয়ে উঠেছে—বিশ্বমঞ্চে ফেরার জন্য সময় সীমিত। ব্রাজিল কোচিং স্টাফ ও চিকিৎসকরা চান, মাঠে ফেরার আগে পুরোপুরি ঝুঁকি কমানো হোক। সেলেসাওর প্রধান চিকিৎসক রদ্রিগো লাসমার আগেই বলেছেন, এটি শুধু সাধারণ ফোলা নয়, পেশির গভীরে নিয়ন্ত্রণযোগ্য চোট; তাই দীর্ঘ বিশ্রাম ও নিয়মিত পুনর্বাসন জরুরি।

আজ সোমবার (৮ জুন) নেইমারের চোটস্থলে নতুন করে ইমেজিং পরীক্ষা করা হবে। এই রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে চিকিৎসকরা ঠিক করবেন কখন তিনি হালকা ট্রানজিশন বা বল নিয়ে অনুশীলনে ফিরতে পারবেন। ৩৪ বছর বয়সী নেইমার ২০২৩ সালের পর দেশের হয়ে দীর্ঘদিন আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেননি, তবু কোচ কার্লো আনচেলত্তি তাঁর অভিজ্ঞতা ও দক্ষতাকে ভরসা করে বিশ্বকাপ স্কোয়াডে রেখেছেন।

ব্রাজিলের বিশ্বকাপ যাত্রা আগামী ১৩ জুন (বাংলাদেশ সময় ১৪ জুন ভোর ৪টা) নিউইয়র্ক/নিউ জার্সির স্টেডিয়ামে মরক্কোর বিপক্ষে শুরু হবে। নেইমারকে ওই প্রথম ম্যাচে পাওয়া যাবে কি না তা এখনও নিশ্চিত নয়। তবে নাসার এই অত্যাধুনিক ট্রেডমিলে প্রাণপণে পুনর্বাসন চালিয়ে যাওয়ায় স্পষ্ট যে নেইমার বিশ্বমঞ্চে ফেরার লড়াইয়ে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ছেড়ে দিতে রাজি নন।