ঢাকা | শুক্রবার | ২৪শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১০ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

ফারহান-রণবীর দ্বন্দ্য মেটাতে সালমান খান মধ্যস্থতায় এগিয়ে

বলিউডের প্রতীক্ষিত প্রজেক্ট ডন থ্রি ঘিরে তৈরি জটিলতা মেটাতে এবার মধ্যস্থতায় নামলেন সালমান খান। সংবাদমাধ্যম বলিউড হাঙ্গামা জানিয়েছে, ফারহান আখতার ও রণবীর সিংয়ের বিরোধ মেটানোর উদ্দেশ্যে সালমান নিজের উদ্যোগে উভয় পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন এবং বিষয়টি দ্রুত ও শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান করার চেষ্টা করছেন।

বতর্মান পরিস্থিতি নিয়ে বলিউড জুড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। সূত্রের কথায়, সালমান—ফারহান ও রণবীর দুজনের সঙ্গেই ব্যক্তিগত সম্পর্ক ভালো। তিনি প্রত্যেকের সঙ্গে আলাপে বসেছেন এবং উভয় পক্ষকে নিজেদের মধ্যে দেখা সৃজনশীল মতপার্থক্য ও ক্ষোভ মিটিয়ে নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি চেষ্টা করছেন যাতে বিষয়টি বড় কোনো মিডিয়া বিতর্কে না গড়ায়।

এর আগে এই দ্বন্দ্য মেটাতে কয়েকটি উচ্চস্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়। গত ফেব্রুয়ারিতে আমির খান তাঁর বাংলোতে একটি হাই-প্রোফাইল বৈঠকের আয়োজন করেছিলেন, যেখানে উপস্থিত ছিলেন করণ জোহর, সাজিদ নাদিয়াদওয়ালা, একতা কাপুর, এক্সেল এন্টারটেইনমেন্টের প্রযোজক ফারহান আখতার ও রিতেশ সিধওয়ানি, জোয়া আখতার এবং জি এন্টারটেইনমেন্টের এমডি পুনিত গোয়েঙ্কা। সেই বৈঠকের পর সবাই আশাবাদী ছিলেন, কিন্তু ফল আঁচড় কাটেনি। প্রডিউসারস গিল্ড অব ইন্ডিয়া বহু প্রচেষ্টা করলেও সমস্যার সমাধানে সফল হয়নি।

পরিস্থিতি আরও জটিল হয় যখন ফেডারেশন অব ওয়েস্টার্ন ইন্ডিয়া সিনে এমপ্লয়িজ রণবীর সিংকে নির্দিষ্ট কারণ দেখিয়ে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়। সংগঠনটি জানিয়েছে, ডন থ্রি সংক্রান্ত আলোচনার জন্য বহুবার নোটিশ পাঠানো ও রিমাইন্ডার দেওয়া হলেও রণবীর সশরীরে উপস্থিত হয়ে কোনো আলোচনা করতে রাজি হননি। এ পরিস্থিতিতে ফেডারেশনের এই সিদ্ধান্ত পরবর্তী আলোচনাকে নতুন মোড় দেয়।

প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালে এক্সেল এন্টারটেইনমেন্ট একটি টিজার প্রকাশ করে রণবীর সিংকে নতুন ডন হিসেবে উপস্থাপন করে। রণবীরের সম্মতিতেই প্রজেক্টের সব প্রস্তুতি চলছিল এবং তাঁর চলচ্ছবি শেষ হতেই শুটিং শুরুর পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু শুটিং শুরু হওয়ার মাত্র তিন সপ্তাহ আগে হঠাৎ করে রণবীর নিজেকে প্রজেক্ট থেকে সরিয়ে নেন, যার ফলে প্রযোজনা সংস্থার আনুমানিক ৪৫ কোটি রুপির আর্থিক ক্ষতি হয়। ফারহান আখতার ওই ক্ষতিপূরণ দাবি করে রণবীরের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেন এবং দুজনের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের মধ্যে ফাটল পড়ে।

এ অনিশ্চিত প্রেক্ষাপটে এবার সালমান খানের মধ্যস্থতা দুই পক্ষই গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করেছে। ফেডারেশনের নিষেধাজ্ঞা ও আর্থিক-আইনি জটিলতা বিবেচনায় নিয়ে একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ সমাধান খোঁজাই এখন সবাইকে চিন্তায় রেখেছে। সালমানের কুশীলবীভাবে আলাপ-আলোচনার ওপর ভর করেই আশা করা হচ্ছে, এই প্রজেক্ট ও সংশ্লিষ্ট সম্পর্কগুলো ক্রমে স্বাভাবিক দিকে ফিরবে।