ঢাকা | বুধবার | ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

সাতক্ষীরা জেলহাজতে সাবেক পিপি অ্যাডভোকেট আব্দুল লতিফের মৃত্যু

সাতক্ষীরা জেলায় কারাবন্দি অবস্থায় সাবেক জেলা জজ কোর্টের পিপি অ্যাডভোকেট আব্দুল লতিফ মারা গেছেন। একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে সাতক্ষীরা জেলা কারাগারে থাকা অবস্থায় রবিবার মধ্যরাতের পর বুকে ব্যথা অনুভব করলে তাকে সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়।

সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেডিসিন ওয়ার্ডে সোমবার ভোর রাত ৩টা ৫ মিনিটে ভর্তি করা হয় আব্দুল লতিফকে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভোর ৪টা ১০ মিনিটে তার মৃত্যু হয় বলে হাসপাতালের চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেছেন। জরুরি বিভাগে দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক ডাঃ ত্রিদেব দেবনাথ তার মৃত্যুর বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেন।

সাতক্ষীরা সদর থানার অফিসার ইনচارج মুহাঃ মাসুদুর রহমান এবং জেলা কারাগারের কর্মকর্তা মনির হোসেনও ঘটনার তথ্য নিশ্চিত করেছেন। কারা কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে মৃতদেহ সংরক্ষণ ও প্রয়োজনীয় আইনি ও চিকিৎসাসংক্রান্ত প্রক্রিয়া নেওয়া হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।

আব্বু্দুল লতিফ (৬৭) সদর উপজেলার কামারবাইশা গ্রামের মো. মুনসুর আলী সরদারের ছেলে। দীর্ঘদিন সাতক্ষীরা শহরের রসুলপুর এলাকার পুলিশ লাইনের পাশে নিজ বাড়িতে বসবাস করতেন। সেখানে তার একটি পাঁচতলা ভবন রয়েছে। আর্থিক সংকটের কারণে তিনি ভবনের কিছু ফ্ল্যাট বিক্রি শুরু করেন এবং আইনগত জটিলতা এড়াতে উকিল কমিশন দিয়ে কয়েকটি ফ্ল্যাট বিক্রি করেছিলেন। অবশিষ্ট ফ্ল্যাট রেজিস্ট্রি করাতে না পারায় গত ডিসেম্বর মাসে তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চলছিল।

পেছনের ঘটনাচক্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর খুলনার বয়রা এলাকায় একটি বিশেষ অভিযানে খুলনা ডিবি পুলিশ তাকে ও তার ছেলে রাসেলকে গ্রেপ্তার করে। স্থানীয় ও দলীয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানা যায়, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি জেলা জজ কোর্টের পিপি ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকারের পতনের পর সাবেক এই পিপির বিরুদ্ধে আটটি হত্যা ও নাশকতাকাণ্ডের মামলা এবং তার ছেলে রাসেলের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা করা হয়। মামলার পর থেকেই তারা গ্রেপ্তার এড়াতে খুলনায় আত্মগোপনে ছিলেন বলে জানানো হয়েছিল।

গ্রেপ্তারের পর সাতক্ষীরা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক মো. নিজামউদ্দিন সাংবাদিকদের জানান, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের প্রেক্ষিতে সাবেক পিপি ও তার ছেলেকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। অভিযানের পর তারা সাতক্ষীরা ডিবি কার্যালয়ে নেয়া হয়েছিল।

স্থানীয় সূত্র এবং সংশ্লিষ্ট 기관 বলছেন, প্রয়োজনে আরও নির্দিষ্ট তথ্য ও ঘটনাবলি জানানো হবে। মরদেহের ময়নাতদন্ত ও নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম সম্পন্ন করার প্রক্রিয়া চলছে।