ঢাকা | বুধবার | ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসও ৩৯০; মোট লিড ৪৩৬—পাকিস্তানকে জিততে হবে বিশ্বরেকর্ড ভেঙে

বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংসে সব উইকেট হারিয়ে ৩৯০ রান করে সবমিলিয়ে আত্মীয়তাভিত্তিক লিড করে ৪৩৬ রানের। ফলে পাকিস্তানকে জিততে হলে হতে হবে টেস্ট ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সফল রানতির বিরুদ্ধে ইতিহাস গড়া — বর্তমান রেকর্ড রয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৪১৮ রানের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য জয়।

প্রথম ইনিংসে টপ অর্ডার হতাশ করলেও লিটন দাসের সেঞ্চুরি এবং বোলারদের কাজেই প্রথমে লিডটি আদায় করেছিল বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ইনিংসে ফের মাঠে নেমে টাইগার ব্যাটাররা শক্ত হাতে ব্যাট করেছেন। বিশেষভাবে মুশফিকুর রহিম দারুণ এক ইনিংস খেলেন এবং তার সেঞ্চুরির সাহায্যে বড় সংগ্রহ গড়ে বাংলাদেশ।

আজ (সোমবার) তৃতীয় দিনে সকালে ১৫৬ রানের লিড নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাটিং শুরু করে। আগের দিন মুমিনুল হক মাঠ ছাড়ায়; ১৩ রানে অপরাজিত থাকা নাজমুল হোসেন শান্তের সঙ্গে ক্রিজে ছিলেন মুশফিকুর রহিম। দিনের পঞ্চম ওভারে শান্ত ৪৬ বলে ১৫ রান করে খুররম শাহজাদের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন; রিভিউ নিয়েও উইকেটটি বদলায়নি। এরপর ক্রিজে এসে লিটন দাস মুশফিকের সঙ্গে জুটি গড়ে মাঠে টিকে থাকেন।

দুজনের ৮৮ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটির ফলে প্রথম সেশন শেষে বাংলাদেশ লিড টেনে নেয় ২০০ রানের ওপর এবং লাঞ্চের আগে লিড দাঁড়ায় ২৪৯ রান। লাঞ্চের পরে দ্রুতই লিটন দাস পেয়ে যান হাফসেঞ্চুরিতে — এটিই তার শহুরে এক বারের পরিমাণ হাফসেঞ্চুরি। লিটন দ্বিতীয় ইনিংসে ৬৯ রান করে ফেরেন; প্রথম ইনিংসেও তিনি বড় একটি ইনিংস করেছেন। মেহেদি মিরাজ যদিও উইকেটে থিতু হন, কিন্তু ইনিংস বড় করতে পারেননি এবং ৩৯ বল খেলে ১৯ রান করে ফিরেছেন।

মুশফিকুর রহিম ফিরতি ইনিংসে চমক দেখান—১৭৮ বলে সেঞ্চুরি স্পর্শ করে, মোট ২৩৩ বলে ১৩৭ রান করে আউট হন। তার ইনিংসে ছিল ৯টি চার ও একটি ছক্কা। এটি টেস্টে মুশফিকের ১৪তম সেঞ্চুরি এবং লাল বলের ক্রিকেটে এখন তিনি দেশের মধ্যে সেরা সেঞ্চুরি সংগ্রাহকদের একজন। ইনিংসের শেষ দিকে তাইজুল ইসলাম ৫১ বলে ২২ রান যোগ করেন। তাসকিন আহমেদ ১৩ বলে ৬ ও শরিফুল ইসলাম ১৫ বলে ১২ রান করেন।

সব মিলিয়ে বাংলাদেশ নিয়েছে একটি বিশাল লিড; পাকিস্তানকে জিততে হলে টপকাতে হবে পুরানো রেকর্ড — এটিই ম্যাচের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।