ঢাকা | বুধবার | ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

পাকিস্তানকে হারিয়ে বাংলাদেশের টেস্টে ‘হ্যাটট্রিক’ জয়

মিরপুরে পাকিস্তানকে ১০৪ রানে হারিয়ে বাংলাদেশ জয়কে আরও বড় করল — টেস্টে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে 이제 ‘হ্যাটট্রিক’ জয় আনন্দে মেতে উঠেছে টাইগাররা। চতুর্থ দিনের সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের সালমান আগা যে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছিলেন — ‘‘যদি তারা সাহস করে ৭০ ওভারে ২৬০ রানের লক্ষ্য দেয়, আমরা তা তাড়া করব’’ — সেটাই মাঠে দর্শনীয়ভাবে ঘটল।

লাঞ্চের কয়েক মিনিট আগে বাংলাদেশের লিড ছিল ২৬৭। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত তখনই ইনিংস ঘোষণা করে দলকে চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করালেন — নাহিদ রানাকে ব্যাটিংয়ে না পাঠিয়ে স্বচ্ছন্দভাবে টার্গেট দিলেন শান্ত। পাকিস্তানের ব্যাটিং শুরুতেই একটা মাইন্ডগেম খেলতে চেয়েছিল, কিন্তু বাংলাদেশের পরিকল্পনা সে মাইনে নিল। সালমান আগা যতটা চেয়েছিলেন, ঠিক ততটাই করার সুযোগ পেলেন না; তিনি জুটিবদ্ধ চেষ্টা করেও মাত্র ২৬ রানে সাজঘরে ফেরেন।

পাকিস্তানের পাল্টা সংগ্রামে আব্দুল্লাহ ফজল অবশ্য শক্ত মনোরুদ্ধতা দেখিয়েছেন। ১১৩ বলে ১১টি চার নিয়ে ৬৬ রান করে ফজল দলের আস্থা বাড়ালেও দুই সেশনেই জয় এনে দিতে পারেনি সফরকারীরা। শেষ বিকেলে ড্র রক্ষা করতে প্রাণপণে লড়াই করলেও দিনের শেষে অলআউট হয় পাকিস্তান — মাত্র ১৬৩ রানে।

টাইগারদের কাছে বড় ভূমিকা রাখেন পেসার নাহিদ রানা। তিনি মাত্র ৪০ রানের বিনিময়ে পাঁচ উইকেট নেন এবং নিজের ইনিংসে ফাইফার তুলে নিয়ে সফরের অন্য এক গুরুত্বপূর্ণ জয় নিশ্চিত করেন। তাসকিন আহমেদ ও তাইজুল ইসলাম দুজন করে উইকেট নেন, আর মেহেদী হাসান মিরাজ একটি উইকেট যোগ করেন।

পাকিস্তানের ইনিংসের শুরুতেই তাসকিনের দারুণ কটবিহাইন্ডে ইমাম-উল হক ফিরলে ইসলামাবাদ দিশাহীন হয়ে ওঠে; ওপেনার আজান আওয়াইস ৩৩ বল খেলতে ১৫ রান করেন এবং দলের চোখে পড়ার মতো বড় স্কোর গড়তে পারেননি অধিনায়ক শান মাসুমও (২)। বিকল্প জুটি গড়ে আব্দুল্লাহ ও সালমান আগা ৫১ রান যোগ করে দলকে শঙ্কামুক্ত করার চেষ্টা করলেও টাইগার বলার বেগে দ্রুত ধাক্কা লাগে।

এর আগে ম্যাচে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে ৪১৩ রানের শক্ত অবস্থান গড়ে তোলেন শান্তের সেঞ্চুরি ও মুমিনুল-মুশফিকের ফিফ্টি; জবাবে পাকিস্তান ৩৮৬ রান করে কড়া প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশ ৯ উইকেটে ২৪০ করে ইনিংস ঘোষণা করলে পাকিস্তানের সামনে দাঁড়ায় ২৬৮ রান তাড়া করার লক্ষ্য। কিন্তু নাহিদ-তাসকিন-তাইজুলদের সমন্বয়ে পাকিস্তান বসে যায় ১৬৩ রানে এবং ম্যাচে বড় ব্যবধানে হার না মেনে শেষ চেষ্টা করেও জয় নিজেদের করতে পারেনি।

এই জয়ে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে বাংলাদেশ এগিয়ে গেছে ১-০তে। টাইগারদের আত্মবিশ্বাস এখন অনেক উঁচু — মাঠে মানসিকতা, পরিকল্পনা ও প্রয়োগ মিলেই এই ফল এসেছে।