রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আগামী দু’এক দিনের মধ্যে পদত্যাগ করতে পারেন—এমনই তথ্য নিশ্চিত করেছে বিএনপি ও বঙ্গভবনের একাধিক সূত্র। পদত্যাগের পর সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব সামলাবেন।
বঙ্গভবনের এক কর্মকর্তা, নাম প্রকাশ না করার শর্তে, জানান যে রাষ্ট্রপতি ইতোমধ্যেই পদত্যাগের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন। পদত্যাগের পর তিনি চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন।
সূত্র আরও বলেছে যে বিএনপির হাইকমান্ড সম্প্রতি রাষ্ট্রপতিকে পদত্যাগ করার অনুরোধ জানিয়েছে এবং সরকারের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে যে পদত্যাগের পর রাষ্ট্রপতিকে কোনো বিব্রতকর অবস্থার সম্মুখীন করা হবে না।
সংবিধানের ধারা ৫০ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি স্পিকারের কাছে স্বাক্ষরিত পত্র প্রেরণের মাধ্যমে পদত্যাগ করতে পারেন। সঙ্গে, ধারা ৫৪-এ বলা আছে—যদি রাষ্ট্রপতি পদ শূন্য থাকে বা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব পালন করতে না পারেন, তখন স্পিকার ওই পদে ভারপ্রাপ্ত থাকবেন যতক্ষণ না নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন বা বর্তমান রাষ্ট্রপতি পুনরায় দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
প্রত্যাশা করা হচ্ছে, মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করলে বিএনপির সংসদীয় দলের এক সভায় নতুন রাষ্ট্রপতি মনোনয়নের নাম চূড়ান্ত করা হবে। এরপর নির্ধারিত সময়ে সংসদের সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে রাষ্ট্রপতি সংক্রান্ত আরও স্পর্শকাতর কিছু তথ্য সামনে এসেছে। সেখানে প্রচারিত এক দাবিতে বলা হচ্ছে—রাষ্ট্রপতি চিকিৎসার জন্য লন্ডনে গিয়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ফোনে কথা বলেন; পরে সেই ফোনালাপ গোয়েন্দা সংস্থাগুলো জানতে পারে এবং বিএনপি সরকার তাকে পদত্যাগের পরামর্শ দেয়।
এ বিষয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেলে সাংবাদিকদের বলেন, রাষ্ট্রপতির সঙ্গে শেখ হাসিনার ফোনালাপ সম্পর্কে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য তাদের আছে বলে জানা যায়নি।
সৎকার্যে সরকারের পক্ষ থেকে এখনও বিষয়টি নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি—এ কথাও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, আপাতত পদত্যাগের খবরটি ‘গুঞ্জন’ হিসেবে রয়েছে; যদি সত্যি পদত্যাগ ঘটে, তখন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ ও আলোচনা করা হবে।
পটভূমি হিসেবে জানা যায়—২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা ভারতে চলে যাওয়ার পর রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব ও অবস্থান নিয়ে তখন আলোচনা উঠেছিল। সেই সময় সংবিধান রক্ষার জন্য ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার তার নিকট শপথ গ্রহণ করায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রিত হয়েছিল। পরে ২০২৬ সালের নির্বাচনে বিএনপির জয়ী হওয়ার পর তারা রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের নিকট থেকে শপথ গ্রহণ করে।




