ঢাকা | শুক্রবার | ২৪শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১০ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

মমতার পদত্যাগের অস্বীকৃতি ও নির্বাচনী কারচুপির অভিযোগে সংকট সৃষ্টি

পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনে বিজেপির কাছে পরাজিত হলেও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তার পদ থেকে পদত্যাগ করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে চলেছেন। মঙ্গলবার কলকাতায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি নির্বাচনী ফলাফলে কারচুপির অভিযোগ তুলে এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন। দেশটির সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, মমতার এই অটল অবস্থান রাজ্যে এক বিরল সাংবিধানিক সংকটের সৃষ্টি করেছে। এই পরিস্থিতি সমাধানে দায়ভার সম্ভবত রাজ্যপাল আর এন রবির ওপর এসে পড়তে পারে বলে বিশেষজ্ঞেরা ধারণা করছেন। সোমবার ফলাফলে পরাজয়ের শঙ্কা প্রকাশের পর, জরুরি এক ভিডিও বার্তায় পশ্চিমবঙ্গের এই মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, তিনি কোনোভাবেই হারেননি; বরং বিজেপি ‘লুটপাটের’ মাধ্যমে ফল ছিনিয়ে নিয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, আমি হারিনি, তাই রাজভবনে যাব না, আমার পদত্যাগপত্র দেওয়ার প্রশ্নই আসে না। এখন কি হবে? এই সিদ্ধান্তের ফলে রাজ্যে可能তঃ রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হতে পারে। তবে ভারতের নির্বাচন কমিশনের একজন সূত্রের মতে, যদি বিধানসভার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই জয়ী দল সরকার গঠন করে রাজ্যপাল তাদের আামন্ত্রণ করলে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার মেয়াদ আগামী ৭ মে শেষ হচ্ছে, ফলে বিজেপির হাতে মাত্র দুই দিন সময় রয়েছে সরকার গঠনের জন্য। অভিযোগকারীরা বলছেন, ভবানীপুর আসনে নিজের ঘনিষ্ঠ ও বর্তমানে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পরাজিত হওয়ার পর তিনি অভিযোগ করেন, এই নির্বাচন চুরি হয়েছে অন্তত ১০০টি আসনে। তিনি একে ‘লুট, লুট এবং লুট’ বলে অভিহিত করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে মমতা কেন্দ্রীয় সরকার ও নির্বাচন কমিশনের ব্যাপক যোগসাজশের অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশন ‘নোংরা খেলোয়াড়ি’ খেলছে বলে মানছেন তিনি। কেন্দ্রীয় সরকারের সরাসরি হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে তারা মহারাষ্ট্র, হরিয়ানা, বিহার এবং এখন বাংলায় ভোট চুরি করেছে। গণতন্ত্রের সঙ্কট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ৭১ বছরের এই নেত্রী বলেন, বিচার বিভাগ যখন সক্রিয় থাকে না, নির্বাচন কমিশন পক্ষপাতদুষ্ট হয় এবং সরকার একদলীয় শাসন চায়, তখন এটি দেশের জন্য অশুভ বার্তা দেয়। তিনি জানান, একটি ভোটকেন্দ্রে তাকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করা হয়েছে; পেটে ও পিঠে লাথি মারার মতো ঘটনা ঘটেছে। সিসিটিভি সরিয়ে দেওয়া হয় এবং তাকে গণনা কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়। একজন নারীর জন্য এর চেয়ে অসভ্য আচরণ অন্য কিছু হতে পারে না। কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যদি কেন্দ্রীয় বাহিনী এমন আচরণ করে, তাহলে তার আর কিছু বলার থাকছে না। আগে থেকে বিজেপির নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা দেখে তিনি বলেছেন, পরবর্তী কৌশল কি হতে পারে সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কিছু বলেননি, তবে ‘ইনডিয়া’ জোটের নেতাদের তার সঙ্গে যোগাযোগ করে পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। তার পাশাপাশি তিনি আঘাত ও কার্যালয় ভাঙচুরের ঘটনাগুলোর তদন্তের জন্য পাঁচজন সংসদ সদস্যের সমন্বয়ে এক কমিটি গঠনের ঘোষণা দেন। রাজ্য রাজনীতিতে তৃণমূলের মূল বিরোধী হলেও, নির্বাচনের পরপরই কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী মমতার পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। সামাজিক মাধ্যম এক্সে তিনি বিজেপিকে ‘ভোট চোর’ আখ্যা দিয়ে বলেছেন, কংগ্রেস ও অন্যান্য দলের কিছু নেতা এবং সাধারণ মানুষ তৃণমূলের হারে খুশি হতে পারেন, কিন্তু বুঝতে হবে, আসাম ও বাংলায় গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি যেন না ভেঙে যায়। তিনি বলেন, বিজেপি এই দুই রাজ্যে ভোট চুরির মাধ্যমে ভারতের গণতন্ত্র ধ্বংসের জন্য বড় একটি পদক্ষেপ নিতে চেয়েছে। এর আগেও, সোমবার, রাহুল গান্ধী ‘নির্বাচন কমিশনের সহায়তায়’ বিজেপির ভোট চুরি করেছে বলে দাবি জানান, আর এই একই কৌশল তারা অন্যান্য রাজ্যেও প্রয়োগ করেছে বলে তিনি পর্যবেক্ষণ করেন। সূত্র: এনডিটিভি।