ঢাকা | শুক্রবার | ২৪শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১০ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয় জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টিকে মরণোত্তর ডক্টরেট ডিগ্রি দিচ্ছে

ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা কর্তৃপক্ষ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টিকে মর্যাদাপূর্ণ মরণোত্তর ডক্টরেট ডিগ্রি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী ৯ মে অনুষ্ঠেয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বসন্তকালীন সমাবর্তনে এই ডিগ্রি প্রদান করা হবে।

সম্প্রতি (৫ মে ২০২৬) ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা আনুষ্ঠানিকভাবে মিয়ামির বাংলাদেশ কনস্যুলেটকে এই তথ্য জানিয়ে চিঠি পাঠিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কনস্যুলেটের একজন প্রতিনিধিকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন, যাতে নিহত দুই পরিবারের পক্ষে তারা এই সম্মাননা গ্রহণ করতে পারেন। আসন্ন সমাবর্তনে মিয়ামির কনস্যুলেটের একজন প্রতিনিধি উপস্থিত থেকে জামিল এবং বৃষ্টির পরিবারের পক্ষে এই মর্যাদাপূর্ণ ডিগ্রি গ্রহণ করবেন।

এছাড়াও, আগামীকাল (৬ মে ২০২৬) বিকেল ২টায় তাম্পায় নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। ৭ মে তার মরদেহ ঢাকায় পাঠানো হবে, এবং বিকেল ৮:৪০ মিনিটে ড্রাইভে আসতে থাকে দুবাই হয়ে রাজধানীতে পৌঁছাবে।

জামিল আহমেদ লিমন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক শেষ করে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতিতে পিএইচডি করছিলেন। তার বয়স হয়েছিল ২৭ বছর।

১৬ এপ্রিল তিনি নিখোঁজ হন এবং একই সময়ে নিখোঁজ হন তার বন্ধু নাহিদা সুলতানা বর্ষী (২৭)। নাহিদা সুলতানা নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষাজীবন সম্পন্ন করেছেন এবং বর্তমানে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে অধ্যয়নরত ছিলেন।

তাদের ফোনের যোগাযোগ বন্ধ পেয়ে ও পরিবারের পক্ষ থেকে যোগাযোগের প্রয়াস চালানোর পর, পুলিশ ইউনিভার্সিটি এলাকার তদন্ত শুরু করে। সন্দেহের ভিত্তিতে তাদের নিয়ে অনুসন্ধানে নেমে ডিরেক্টর হিশাম আবুঘরবেহকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

আবুঘরবেহকে জিজ্ঞাসাবাদের পর, ২৪ এপ্রিল ফ্লোরিডার হাওয়ার্ড ফ্রাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের কাছে একটি বর্জ্যব্যাগে তার ক্ষতবিক্ষত মরদেহ পাওয়া যায়। এই ঘটনায় আবুঘরবেহর বিরুদ্ধে ফার্স্ট ডিগ্রি হত্যার দুটো মামলা দায়ের করা হয়েছে।