ঢাকা | শুক্রবার | ২৪শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১০ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

খুলনায় গুলিবিদ্ধ যুবককে ঢাকায় নেয়ার পথে অ্যাম্বুলেন্সে গুলি

খুলনায় গুলিবিদ্ধ আড়াই চল্লিশ বছরের যুবক রাজু হাওলদারকে (৩৮) ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার সময় দুর্বৃত্তরা অ্যাম্বুলেন্সও লক্ষ্য করে গুলি চালায়। পেটের কাছে এক গলার ক্ষত হয়ে গুরুতর অবস্থায় তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতেই ঢাকায় পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত মতে, সোমবার (৪ এপ্রিল) সন্ধ্যার পর লবণচরা থানার কোবা মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় দুর্বৃত্তরা রাজুকে লক্ষ করে গুলি করে। গুলির সঠিক সময় এবং হামলার স্থান সম্পর্কে কেউ নিশ্চিত তথ্য দিতে পারেননি। এক গুলি তার পেটে লাগে।

আহত রাজুর সঙ্গে থাকা এক নারী জানান, তিনি আহত যুবকের পরিচিত — তার ছেলে ওই যুবকের বন্ধু। আহত অবস্থায় রাজু zunächst তাদের বাড়িতে আশ্রয় নেয়, পরে চিকিৎসার প্রয়োজন দেখা দিলে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

রাজু হাওলদার লবণচরা থানার শিপইয়ার্ড এলাকার, ইউনুস হাওলদারের ছেলে বলে স্থানীয়রা জানান। গুরুতর আহত হওয়ায় তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসকরা উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন।

ঢাকায় নেয়ার পথে রাত সাড়ে বারটার দিকে রূপসা উপজেলার কুদির বটতলা এলাকায় পৌঁছালে দুর্বৃত্তরা অ্যাম্বুলেন্সকে লক্ষ্য করে পুনরায় গুলি চালায়। অ্যাম্বুলেন্স চালক মো. ফারুক দ্রুত গাড়িটি কাটাখালী হাইওয়ে থানায় নিয়ে গিয়ে আশ্রয় নেন। পরে হাইওয়ে পুলিশের সহযোগিতায় রক্ষা পেয়ে আবারও ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়া হয়।

অ্যাম্বুলেন্স চালক মো. ফারুক বলেন, খুলনা মেডিকেল কলেজ থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার পর কুদির বটতলা এলাকায় পৌঁছালে সন্ত্রাসীরা গুলি চালায়। গুলি গাড়িতে লেগে যাওয়ার আশঙ্কায় তিনি ঝটপটে থানায় আশ্রয় নেন।

কাটাখালী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাফর আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, গুলিবিদ্ধ এক রোগীকে ঢাকায় নেওয়ার পথে দুর্বৃত্তরা অ্যাম্বুলেন্স লক্ষ্য করে গুলি চালায়; পরে পুলিশি সহায়তায় অ্যাম্বুলেন্সটিকে নিরাপদে সীমানা পার করে দেয়া হয়।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার শিহাব করীম বলেন, লবণচরা এলাকায় একজন যুবক গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, তবে ঠিক কোথায় এবং কখন তার ওপর হামলা হয়েছে তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশের কাছে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে কয়েকটি মামলা আছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে।

বর্তমানে রাজুর শারীরিক অবস্থা ও ঢাকায় পৌঁছে তার চিকিৎসার সবশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে হাসপাতাল থেকে তৎকালীন কোনো বিস্তারিত বিবরণ পাওয়া যায়নি। ঘটনার বিষয়টি নিয়ে পুলিশ তদন্ত করছে।