ঢাকা | শুক্রবার | ২৪শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১০ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ অগ্রাহ্য করে এশিয়ায় পৌঁছল ইরানের বিশাল তেল ট্যাংকার

ওমান উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর নজরদারি ও ঘোষিত অবরোধ উপেক্ষা করে এশিয়া-প্যাসিফিক এলাকায় পৌঁছে গেছে ইরানের একটি ভলিউমপূর্ণ তেলবাহী জাহাজ। পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ট্যাংকার ট্র্যাকার্স ডটকম রোববার (৩ মে) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সংস্থার বরাতে জানা যায়, ন্যাশনাল ইরানিয়ান ট্যাংকার কোম্পানির মালিকানাধীন ওই ভেরি লার্জ ক্রুড ক্যারিয়ার (ভলৃৎ জাহাজ) প্রায় ১৯ লাখ ব্যারেল বা তারও বেশি অপরিশোধিত তেল বহন করছে, যার বাজার মূল্য আনুমানিক ২২০ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ২২ কোটি টাকা)।

ট্যাংকার ট্র্যাকার্স বলেছে, জাহাজটিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ‘হিউজ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, এক সপ্তাহেরও বেশি সময় আগে জাহাজটি শ্রীলংকার উপকূলে দেখা গিয়েছিল। বর্তমানে এটি লম্বক প্রণালী পার করে ইন্দোনেশিয়ার রিয়াউ দ্বীপপুঞ্জের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

প্রতিষ্ঠানটি আরও জানায়, ১৩ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ইরানি বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ ঘোষণা করার সময় জাহাজটি ইরানি জলসীমায় ছিল। এছাড়া, ২০ মার্চ মালাক্কা প্রণালি থেকে ইরানের উদ্দেশে রওনা দেয়ার পর থেকে জাহাজটি তার অটোমেটিক আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম (এআইএস) বন্ধ রেখেছে, যা চলাচল লুকানোর ইঙ্গিত দেয়।

আল জাজিরা ইরানের গণমাধ্যমের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত অন্তত ৫২টি ইরানি জাহাজ যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত অবরোধ লঙ্ঘন করেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সূত্র বলেছে, অবরোধ শুরু হওয়ার পর থেকে তারা প্রায় ৪১টি ইরান সংশ্লিষ্ট জাহাজকে গতিপথ পরিবর্তন করতে বাধ্য করেছে।

ওয়াশিংটন দাবি করছে, অবরোধ কার্যকরভাবে কাজ করছে এবং এতে ইরানের তেল prihodায় ব্যাপক রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে; তাদের কথায়, ইরান এখন তেল রপ্তানি করতে সীমাবদ্ধ এবং উৎপাদন অব্যাহত থাকলেও তেল মজুত করে রাখতে বাধ্য হবে। পরিস্থিতি দুপক্ষের দাবি-প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাঝে থেকে আন্তর্জাতিক জলপথের নিরাপত্তা ও বাণিজ্যিক চলাচল কেমনভাবে প্রভাবিত হবে তা নজরদারি করা হচ্ছে।