ঢাকা | শুক্রবার | ২৪শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১০ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

বাগেরহাটে গুরুতর আহতকে ‘নরমাল’ সার্টিফিকেট প্রদানের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি

বাগেরহাটে এক পরিবারের অভিযোগ—গুরুতর আহত সদস্যকে সাধারণ আঘাতের সার্টিফিকেট দেয়ায় তারা হতাশ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে বাগেরহাট প্রেসক্লাবে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে সংবাদপত্রকর্মী ও এলাকাবাসীর সামনে এ অভিযোগ তুলে প্রধানমন্ত্রীর, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর, আইজিপি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ দাবি করেন ভুক্তভোগী পরিবার।

সংবাদ সম্মেলনে আহত ব্যক্তির বোন ইরানী বেগম লিখিত বক্তব্যে বলেন, গত ২ মার্চ রাতে ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে বাহারুল সরদার, শিফাত সরদার, নাসির উদ্দিন শেখ, আমিরুল ইসলাম কুটি ও মোনসেব শেখ নামের কয়েকজন আমাদের বাড়ি থেকে জোরপূর্বক আমার ভাই সোহানকে টেনে-হেঁচড়া করে একটি ফাঁকা স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে তারা তার শরীরের বিভিন্ন অংশে বেধরক মারধর করে এবং ছুরিকাঘাত করে তাকে গুরুতর জখম করে। হামলাকারীরা আমাদের পরিবারকেও মারধর করে।

ইরানী বেগম বলেন, ঘটনার সময় আমি ৯৯৯-এ ফোন করি; পুলিশ ঘটনাস্থলে আসলে আসামীরা আমার ভাইকে খুন করতে ব্যর্থ হয় এবং আমাদের উপর খুন-জখমের ভয় দেখিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে আমরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলেও সঠিক চিকিৎসা ও আন্তরিক সেবা না পেয়ে হতাশ হই। সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয়—হাসপিটাল থেকে আসামকের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে আমার ভাইয়ের ইনজুরি সার্টিফিকেট ‘নরমাল’ বা সাধারণ আঘাত হিসেবে দেয়া হয়েছে, যা আমাদের কাছে সময়োপযোগী ও সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিতে বাধা সৃষ্টি করেছে বলে তারা অভিযোগ করেন।

তিনি আরও বলেন, আমরা ফকিরহাট থানায় অভিযোগ করতে গেলে অভিযোগ গ্রহণ করা হয়নি; তারা দাবি করেন, আসামীদের রাজনৈতিক প্রভাব অথবা অন্য কোনো কারণে থানায় মামলা নেয়া হয়নি। বাধ্য হয়ে আমরা পরে আদালতে মামলা দায়ের করি এবং মামলাটি তদন্তের জন্য গোয়েন্দা পুলিশের কাছে পাঠানো হয়েছে। মামলাটি দায়ের করার পর থেকে আসামীরা নিয়মিত তাদের পরিবারের সদস্যদের খুন-জখমের হুমকি দিচ্ছে—এ কারণে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। ইরানী বেগম জানান, এলাকার এসব আসামি মাদক ব্যবসা, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও ভূমিদস্যু হিসেবে চিহ্নিত। থানায় সাধারণ ডায়েরি দিলেও কোনো কার্যকর প্রতিকার পাননি।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবার দাবি করেন—অসৎভাবে ‘নরমাল’ সার্টিফিকেট প্রদানের কারণ অনুসন্ধান করে হাসপাতালের দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত করে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে হামলাকারী সমস্ত আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার ও তাদের হামলা থেকে পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি করেন তারা। প্রশাসন, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আইজিপির হস্তক্ষেপের অনুরোধ জানিয়ে তারা এলাকাবাসীর সুরক্ষা নিশ্চিত করে এসব সন্ত্রাসী ও মাদকগোষ্ঠীকে কড়া হাতে দমন করার আহ্বান জানিয়েছেন।