ঢাকা | শুক্রবার | ২৪শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১০ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

এসএসসি প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রে অনলাইন প্রতারণার অভিযোগে ৪ জন গ্রেফতার

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) বিভাগ এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অনলাইন প্রতারণার ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করেছে। বিষয়টি শনিবার (২৫ এপ্রিল) ডিএমপি উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) এনএম নাসিরুদ্দিন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

গ্রেফতারকৃতদের নাম — সিফাত আহমেদ সজিব, মো. সালমান, মেছবাউল আলম মাহিন ও মহিদুজ্জামান মুন্না।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত ২০ এপ্রিল সিটি-ইন্টেলিজেন্স অ্যানালাইসিস বিভাগ (সিউটিসি) সোশ্যাল মিডিয়া মনিটরিং করার সময় ‘এসএসসি-২০২৬ প্রশ্নপত্র ফাঁস গ্রুপ’ নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগৃহীত করে। প্রাপ্ত তথ্য ও প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের ভিত্তিতে একই দিন রাত ৮টার দিকে সিটিটিসির একটি টিম ঢাকার আশুলিয়ার জিরাবো তাঁজপুর এলাকা থেকে সিফাত আহমেদ সজিবকে গ্রেফতার করে।

সিফাতের দেওয়া তথ্য ও স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে পরবর্তী দিনগুলোতে আরও অভিযান চালানো হয়। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বগুড়ার ধুনট থানা এলাকা থেকে মো. সালমানকে গ্রেফতার করা হয়। একই দিনে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ বাজার থেকে দেওগাঁ রিয়াজউদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় এলাকা থেকে মেছবাউল আলম মাহিনকে গ্রেফতার করা হয়।

পরে তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সিরাজগঞ্জের তাড়াশ থানার নওগা ইউনিয়নের শাহ শরীফ জিন্দানীর (রহ.) মাজার এলাকা থেকে মহিদুজ্জামান মুন্নাকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন পরীক্ষায় এসএসসি-২০২৬ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস ও অনলাইন প্রতারণা সংক্রান্ত কার্যক্রমে তাদের সম্পৃক্ততার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাই ঐ ফোনগুলো জব্দ করা হয়েছে এবং তা বিশ্লেষণের জন্য সংরক্ষণ করা হয়েছে।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃতরা অবৈধ আর্থিক লাভের উদ্দেশ্যে স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু পরীক্ষাপদ্ধতি ব্যাহত করার চেষ্টা করেছিল। তারা প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজব ছড়িয়ে শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের মধ্যে নৈরাজ্য, হতাশা ও উদ্বেগ সৃষ্টি করারও চেষ্টা চালায়।

ঘটনায় ডিএমপি রমনা মডেল থানায় একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে এবং ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আরও কারো সন্ধানে গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে। তদন্ত চলমান রয়েছে।