ঢাকা | শুক্রবার | ২৪শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১০ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

তনু হত্যা মামলা: তিন দিনের রিমান্ড শেষে সাবেক সেনা সদস্য হাফিজুরকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

কুমিল্লা: বহুল আলোচিত সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া সাবেক সেনা সদস্য হাফিজুর রহমানকে তিন দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন কুমিল্লা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক আব্দুল্লাহ আমান। আদেশটি দেওয়া হয় আজ শনিবার, ২৫ এপ্রিল দুপুরে।

পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) জানিয়েছে, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তদন্তকারীরা হাফিজুরকে আদালতে হাজির করলে শুনানির পর তাকে কারাগারে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। পিবিআই সূত্রে জানা গেছে, রিমান্ডে পাওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তদন্তের সঙ্গে সমন্বিত একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রিমান্ডের সময় আসামিকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং কিছু তথ্য পাওয়া গেছে, যা বর্তমানে যাচাই করা হচ্ছে। তিনি বলেছেন, তদন্তের স্বার্থে সবকিছু এই মুহূর্তে প্রকাশ করা সম্ভব নয়। এ ছাড়া হাফিজুরের ডিএনএ সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে; রিপোর্ট পাওয়া মাত্র পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

এর আগে গত বুধবার তদন্তকারীর আবেদনের প্রেক্ষিতে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোমিনুল হকের আদালত হাফিজুরের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

গত মঙ্গলবার রাতেই রাজধানীর কেরানীগঞ্জ থেকে পিবিআই এক অভিযান চালিয়ে এই অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসারকে গ্রেপ্তার করে। দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর পর মামলাটিতে এটিই প্রথম কোনও গ্রেপ্তার, যা পুনরায় তনু হত্যা ঘটনায় নতুন করে আলোচনা-চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।

তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, গত ৬ এপ্রিল মামলার সপ্তম তদন্ত কর্মকর্তা আদালতের অনুমতি চান তিন সন্দেহভাজন — অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট জাহিদ, ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান এবং সৈনিক শাহিনুল আলমের ডিএনএ নমুনা ক্রস-ম্যাচ করার জন্য। আদালতের নির্দেশনায় তদন্তে গতি আসে এবং পরে গ্রেপ্তার অভিযান পরিচালনা করা হয়।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে ঘটে যাওয়া এ হত্যাকাণ্ডের পর থেকে মামলা দীর্ঘদিন ধরেই বিচার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এ পর্যন্ত চারটি সংস্থা ও সাতজন তদন্ত কর্মকর্তা মামলাটি পরিচালনা করেছেন। গত কয়েকবছরে বহু ধার্য তারিখ পেরিয়ে গেলেও হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদ্‌ঘাটনে অগ্রগতি আপাতত সীমিত ছিল। তবু সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলো তদন্তে নতুন মোড় আনতে পারে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।