ঢাকা | শুক্রবার | ২৪শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৭ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অনুদান গোপন করে কোটি টাকার আত্মসাতের অভিযোগ

ঢাকা, ২৩ এপ্রিল — বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় মুখপাত্র সিনথিয়া জাহিন আয়েশা অভিযোগ করেছেন, আন্দোলনের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ প্রচারণা চালানোর সময় সরকার থেকে পাওয়া অনুদান গোপন রেখে অর্থ আত্মসাত করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত অভিযোগ তিনি বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে করেন।

সিনথিয়া জানান, অভিযোগের লক্ষ্য রয়েছেন সংগঠনের সাবেক সভাপতি রিফাত রশিদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মঈনুল ইসলাম ও মুখ্য সমন্বয়ক হাসিব আল ইসলাম। এছাড়া দপ্তর সম্পাদক শাহাদাত হোসেন ও লিগ্যাল সেল সম্পাদক মাহফুজ এ-আরকেও আর্থিক অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযােগ তোলা হয়েছে।

তিনি বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কোনো ব্যক্তিগত বা কোনো রাজনৈতিক দলের সংগঠন নয়; এটি সাধারণ জনগণের সংগঠন। সংগঠনকে ব্যবহার করে রাষ্ট্রীয় বরাদ্দকৃত অর্থ নিজেদের মতো ইচ্ছেমতো বিতরণ বা ব্যবহার করা হলে চলবে না। তার অভিযোগ, রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে প্রায় এক কোটি টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে, কিন্তু ওই অর্থের উৎস ও ব্যয় সম্পর্কে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে জানানো হয়নি এবং তথ্য গোপন রাখা হয়েছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘হ্যাঁ’ প্রচারণা অনলাইনে দেশব্যাপী চালানো হয়েছিল। সে বিষয় নিয়ে তিনি উৎস সম্পর্কে প্রশ্ন করলে প্রথমে বলা হয়েছিল এটি ব্যক্তিগত খরচ বা ‘বাবার টাকা’ দিয়ে করা হবে। পরে দাবি করা হয় বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে, কিন্তু সেই সংক্রান্ত তথ্য দায়িত্বশীলদের কাছে উপস্থাপন করা হয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে সিনথিয়া আরও বলেন, গত বছরের ২৫ জুন প্রথম জাতীয় কাউন্সিলে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত কমিটি গঠিত হয়েছিল, যেখানে নিজে কেন্দ্রীয় মুখপাত্র হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন। কিন্তু নির্বাচনের পরও তাদের সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করতে বাধা দেয়া হয়েছে, কেন্দ্রীয় কমিউনিকেশন ও প্রশাসনিক অ্যাকসেস থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছে এবং সিদ্ধান্ত একদিকে এককভাবে নেয়ার অভিযোগ ওঠেছে—যা সংগঠনের গণতান্ত্রিক চেতনার পরিপন্থী।

একাধিকবার জবাবদিহিতা চাওয়া হলেও বিষয়টি অস্বীকার করে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। সর্বশেষ ১২ এপ্রিল আয়োজিত এক কেন্দ্রীয় বৈঠকে ওই কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের মোকাবিলায় একটি ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে কমপক্ষে এক কোটি টাকা সংগৃহীত হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করা হয়েছে, কিন্তু অর্থ কোথা থেকে এসেছে এবং কীভাবে ব্যয় হয়েছে সে বিষয়ে কোনো স্বচ্ছ হিসাব দেখানো হয়নি। বৈঠকে ব্যয়ের হিসাব উপস্থাপনের আগেই উপস্থিত সদস্যদের মোবাইল ফোন জব্দ করে নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

সিনথিয়া অভিযোগ করেন, স্বচ্ছতা বজায় না রাখায় পুরো প্রক্রিয়াটি পরিকল্পিত আর্থিক অনিয়ম ও সম্ভাব্য আত্মসাতের ইঙ্গিত বহন করে। জবাবদিহিতা দাবি করলে তাদের ওপর সংগঠনকে অস্থিতিশীল করার অভিযোগ আনা হয়েছে; এমনকি কিছু নেতা পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে কোনো সাংগঠনিক আলোচনার ছাড়া সংগঠনকে স্থগিত ঘোষণা ও একটি রাজনৈতিক দলে যোগদানের প্রস্তুতি নেন।

আরও অভিযোগ করা হয়, সংগঠনের কেন্দ্রীয় ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে একটি প্রেস রিলিজ প্রকাশ করা হয়, যেখানে একটি তথাকথিত উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের কথা বলা হয়েছে—যার বেশিরভাগ সদস্য কোনো না কোনোভাবে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত বলে বলা হচ্ছে।

এই সব অনিয়ম তদন্তের উদ্দেশ্যে ফান্ডের উৎস ও ব্যয়ের সঠিক তথ্য জানতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। ব্যাংক থেকে তথ্য পাওয়া গেলে তা গণমাধ্যমের সামনে উপস্থাপন করে পরবর্তী ব্যবস্থা সম্পর্কে সবাইকে জানানো হবে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলন থেকে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে অনুদান খাতের ব্যবহার অডিট করা, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনে আইনত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।