সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেছেন, দেশ যুদ্ধের জন্য নয়—জীবনের ও সার্বভৌমত্বের নিরাপত্তা রক্ষার্থে যুদ্ধ এড়াতেই প্রস্তুতি নেওয়া হয়। শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়া কার্যকর পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়ন করা সম্ভব না বলে তিনি সতর্ক করেছেন।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দুপুরে মিরপুর সেনানিবাসের ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজে (এনডিসি) তিন সপ্তাহব্যাপী ‘‘ক্যাপস্টোন কোর্স ২০২৬/১’’–এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন সেনাবাহিনী প্রধান। তিনি বলেন, দেশের নিরাপত্তা ও স্বার্থ বজায় রাখতে প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি—তবে তার উদ্দেশ্য আগ্রাসন নয়, শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষা করা।
সেনাপ্রধান জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি সমুদ্রপথের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় নৌবাহিনীর সক্ষমতা আরও বাড়ানো অপরিহার্য। একই সঙ্গে বিমানবাহিনীর আধুনিকায়নও অত্যন্ত প্রয়োজনীয়, যাতে বহুমুখী হুমকি মোকাবিলা করা যায় এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগ নিশ্চিত থাকে।
রোহিঙ্গা সংকটকে তিনি জাতীয় সমস্যা হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, এর স্থায়ী সমাধান দরকার এবং এতে সরকার, সামরিক, বেসরকারি ও আন্তর্জাতিক অংশীদার সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।
এছাড়া তিনি জ্বালানি নিরাপত্তাকে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে তুলে ধরেন। স্বাধীনতা আসার পঞ্চাশ বছরের বেশি সময় অতিক্রান্ত হলেও দ্বিতীয় রিফাইনারি গড়ার কাজ না হওয়ায় দেশে অপর্যাপ্ত পরিমাণ তেল পরিশোধন সম্ভব হচ্ছে; ফলে বড় পরিমাণে জ্বালানি আমদানির জন্য নির্ভরতা ও উচ্চমূল্যের চাপ বাড়ছে। আন্তর্জাতিক উত্তেজনা—যেমন ইরান-যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল-সম্পৃক্ত সংকট এবং হরমুজ প্রণালী এলাকায় অস্থিরতা—এসব জ্বালানি সরবরাহে সরাসরি প্রভাব ফেলায় সাধারণ মানুষের জীবনে তার প্রতিফলন পাওয়া যায়, বলে তিনি সতর্ক করেছেন।
এনডিসির কমান্ড্যান্ট লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. ফয়জুর রহমান সমাপনী অনুষ্ঠানে বলেন, জাতীয় গুরুত্বপূর্ন বিষয়গুলোতে আভ্যন্তরীন সংলাপ ও ঐক্যমত্য গঠন করা অপরিহার্য। কোর্স চলাকালীন ফেলোদের সক্রিয় অংশগ্রহণ কৌশলগত বোঝাপড়া বাড়াতে এবং বিভিন্ন খাতের নেতৃবৃন্দের মধ্যে জাতীয় মেলবন্ধন গড়ে তুলতে সহায়ক হয়েছে।
ক্যাপস্টোন কোর্সটি কৌশলগত সচেতনতা বৃদ্ধি, গঠনমূলক চিন্তাধারা উন্নয়ন, আন্তঃবিভাগীয় সহযোগিতা জোরদার এবং জাতীয় নিরাপত্তা ও উন্নয়ন বিষয়ে অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয়। চলতি কোর্সে মোট ৪৫ জন ফেলো অংশগ্রহণ করেন, যাদের মধ্যে ছিলেন সংসদ সদস্য, জ্যেষ্ঠ সামরিক ও পুলিশ কর্মকর্তা, খ্যাতনামা শিক্ষাবিদ, জ্যেষ্ঠ চিকিৎসক, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ প্রতিনিধি, কূটনীতিক এবং বিশিষ্ট ব্যবসায়ী।
সেনাপ্রধান সমাপনী বক্তব্যে আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে এনডিসিতে এ ধরনের আরও কোর্স পরিচালিত হবে এবং অংশগ্রহণকারীরা তাদের অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে দেশের উন্নয়ন ও নিরাপত্তায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করবেন। অনুষ্ঠানে সশস্ত্র বাহিনী, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, এনডিসি ফ্যাকল্টি এবং অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।




