ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৬ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

অন্তর্বর্তী সরকারের মার্কিন চুক্তি: হরমুজ প্রণালির চেয়ে বড় বাধা

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সঙ্গে মার্কিন বাণিজ্যিক চুক্তি দেশের জ্বালানি আমদানিতে হরমুজ প্রণালির বাধার চেয়েও বড় সমস্যা বলে মন্তব্য করেছেন অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। আজ শনিবার রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, আমাদের উচিত উত্থানকালীন সময়ের জন্য ગ্রীન এনার্জির দিকে মনোযোগ দেওয়া। জ্বালানি সংকট থেকে মুক্তি পেতে হলে আগামী বাজেটে সেই লক্ষ্যে পদক্ষেপ নিতে হবে। আওয়ামী লীগের শাসনামলে জ্বালানি নীতিতে অনেক ভুল হয়েছে। নতুন অনুসন্ধান ও উদ্‌ঘাটন হয়নি, বরং বেসরকারি সংস্থায় বিনিয়োগের পরিবর্তে আমদানি নির্ধর্‌শতা বাড়ানো হয়েছে। দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা যথেষ্ট থাকলেও ব্যবহারে দেখা দেয় না, কারণ কায়েমী স্বার্থের কারণে আমদানির ওপর নির্ভরশীলতা আরও বেড়ে গেছে।

জ্বালানি সরবরাহের ব্যাপারে তিনি বললেন, ‘জ্বালানি সরবরাহের জন্য প্রয়োজন, হরমুজ প্রণালীতে যে বাধা সৃষ্টি হয়েছে তা অতিক্রম করতে। তবে সবচেয়ে বড় সমস্যা হল, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক চুক্তি।’

তিনি আরও বলেন, ‘ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি অর্থনীতি ও জ্বালানির ক্ষেত্রেও অবদান রাখছে। সংস্কার কার্যকর না হলে আইএমএফ সহ অন্য কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থা ঋণ দেবে না। সরকারের দরকার ২-৩ বিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত অর্থ।’

অর্থনীতিবিদটি যোগ করেন, ‘কর হার কমিয়ে করদাতার সংখ্যা বাড়াতে হবে। আর্থিক ও সামাজিক চুক্তির মাধ্যমে কর থেকে অর্জিত অর্থ সেবা নিশ্চিত করতে হবে। এই সরকারের ঘোষিত ইশতেহার অনুযায়ী এ বিষয়গুলো বাস্তবায়ন করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘যদি কেবিনেটের সাব-কমিটি পেট্রোল পাম্পের সামনে লাইন কমানোর জন্য কার্যকর উদ্যোগ নিতে না পারে, তাহলে সেই কমিটি কী কাজ করবে? সাব-কমিটি গুলোর উদ্যোগ জনসাধারণের অগোচরে থাকলে তা অর্থহীন।’

ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য উল্লেখ করেন, ‘আগামী বাজেটে জ্বালানি খাতে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে, কাঠামোগত পরিবর্তন আনতে হবে। বিশেষ করে বাপেক্সকে আরও সক্রিয় করতে হবে এবং সমুদ্র থেকে জ্বালানি অনুসন্ধানের উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি জ্বালানিতে দেওয়া ভর্তুকির বিবেচনা পুনরায় করতে হবে, যেন সাশ্রয়ী দামে আমদানি সম্ভব হয়।’