ঢাকা | শনিবার | ২৫শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১১ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ছে, যুদ্ধ বন্ধ না হলে আরও বৃদ্ধি হয়তো হবে: এফএও

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের পর গত মার্চে খাদ্যপণ্যের দাম সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত অব্যাহত থাকলে এই দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) জানিয়েছে, এ পরিস্থিতির যদি দ্রুত সমাধান না হয়, তাহলে বিশ্ব বাজারের জন্য অবনতি হতে হবে।

শুক্রবার এক বিবৃতিতে এফএও-এর প্রধান অর্থনীতিবিদ ম্যাক্সিমো টোরেরো বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পরে শুরুতে খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি তুলনামূলকভাবে সীমিত ছিল। কারণ ছিল যথেষ্ট বৈশ্বিক শস্য সরবরাহ, যা দাম নিয়ন্ত্রণে রাখে।’ তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি সংঘাত ৪০ দিনের বেশি স্থায়ী হয় এবং উৎপাদন ব্যয় উচ্চ রাখা হয়, তবে দরকারি খাদ্যশস্যের জন্য ঝুঁকি আরও বাড়বে।

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, শস্য মূল্য সূচক গত মাসের তুলনায় ১.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিমাণে, যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চ সারমূল্যের কারণে গমের দাম ৪.৩ শতাংশ বেড়েছে, যা চাষাবাদের জন্য উদ্বেগের কারণ। পাশাপাশি, ধানের দাম ৩ শতাংশ কমেছে। ফসল তোলার সময়কাল ও আমদানির চাহিদা কমার কারণে ধানের সরবরাহ বাড়ায় দাম হ্রাস পেয়েছে।

অন্যদিকে, ভোজ্যতেলের দাম প্রায় ৫.১ শতাংশ বেড়েছে। চিনিতে মার্চে ৭.২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২০২৫ সালের অক্টোবরের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এ বছরের বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ায়, ব্রাজিলের মতো চিনি রপ্তানিকারক দেশে আখের থেকে বেশি ইথানল উৎপাদনের জন্য চিনি বিকল্প হিসেবে এর ব্যবহার বাড়তে পারে, যা মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম কারণ।

এফএও আরও জানিয়েছে যে, ২০২৫ সালে বিশ্বে শস্যের মোট উৎপাদন পূর্বাভাস সামান্য বাড়িয়ে ৩.০৩৬ বিলিয়ন মেট্রিক টনে উন্নীত হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৫.৮ শতাংশ বেশি। এই বৃদ্ধির ফলে বিশ্ব বাজারে খাদ্যপণ্যের পরিস্থিতি অ uncertain থাকছে, এবং যুদ্ধ বা অন্য কোন অপ্রত্যাশিত ঘটনা না হলে তা মূল্যপ্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।

সূত্র: রয়টার্স।