ঢাকা | শনিবার | ২৫শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১১ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

সাতক্ষীরায় হেলমেট, লাইসেন্স ও কাগজপত্র ছাড়া মোটরসাইকেলে তেল বিক্রি বন্ধ

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক হেলমেট, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও বৈধ কাগজপত্র ছাড়া মোটরসাইকেলে জ্বালানি তেল বিক্রি নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন। আদেশটি বুধবার (২৫ মার্চ) সকাল থেকে জেলার প্রতিটি পেট্রোল পাম্পে কার্যকর করা হয়।

জানা গেছে, ঈদের পর থেকেই জেলায় পাম্পগুলোতে তেলের সরবরাহ আছে; তবু তেলের সমস্যা টালমাটাল হচ্ছে না। প্রতিদিন সকালের মুহূর্ত থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনের সামনে মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন লক্ষ্য করা যায়। অনেক চালক সিরিয়াল নেবার জন্য রাতভর পাম্পের আশপাশে ঘুমিয়ে থাকেন।

বুধবার সকালে মহেশ্বর কাটি, বুধহাটা, ধুলিহর ভাই ভাই, এবি খান, মোজাহার, মজুমদার, সোনালী, আলিপুর ও কপোতাক্ষসহ জেলার বহু পাম্পে খুলনা থেকে তেল আসার অপেক্ষায় শত শত মোটরসাইকেল লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। কোথাও কোথাও প্রতি মোটরসাইকেলে সীমিতভাবে ৩০০–৫০০ টাকার তেল দেওয়া হচ্ছে। শহরের এবি খান পাম্পে দীর্ঘ লাইনের কারণে ব্যাপক যানজট তৈরি হওয়ায় পথচারী ও অন্যান্য যানবাহনের চলাচলে বিঘ্ন পড়ছে।

একই সঙ্গে শহর ও আশপাশের খোলা বাজারে অতিরিক্ত মূল্যে তেল বিক্রির অভিযোগও উঠেছে। কিছু খুচরা দোকানে পেট্রোল লিটারপ্রতি ২৫০–৩০০ টাকা এবং অকটেন ৩০০–৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি। পাম্প থেকে তেল না পেয়ে অনেকে অতিরিক্ত মূল্য দিয়ে কেনাকাটা করতে বাধ্য হচ্ছেন।

এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জেলা প্রশাসন পাম্পগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে—হেলমেট ছাড়া, ড্রাইভিং লাইসেন্স বা বৈধ কাগজপত্র না থাকলে মোটরসাইকেলে তেল দেয়া হবে না। জেলা প্রশাসক মিজ আফরোজা আখতা এ নির্দেশনাগুলো নিশ্চিত করে বলেন, জেলার পাম্পগুলোতে তেলের সরবরাহ মোটামুটি স্বাভাবিক রয়েছে; কিন্তু একসঙ্গে কয়েকশো মোটরসাইকেলের ভিড় পরিস্থিতি অব্যবস্থাপনার কারণ হচ্ছে। তাই ভিড় ও যানজট রোধে কাগজপত্র যাচাই করে তেল বিক্রি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জেলার motorists-দের অনুরোধ করা হয়েছে—হেলমেট পরিধান এবং প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট সঙ্গে রাখতে, যাতে ত্বরিতভাবে তেল সরবরাহ পাওয়া যায় এবং যানজট কমে। জেলা প্রশাসন ভবিষ্যতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে অতিরিক্ত পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে।