ঢাকা | বুধবার | ২২শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৫ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

জামায়াত-এনসিপি নিয়ে মনিরুল হক চৌধুরীর অভিযোগ, খালেদা জিয়ার ভূমিকা স্মরণ করার আহ্বান

জাতীয় সংসদে জামায়াত ও এনসিপি নিয়ে ধারালো মন্তব্য করেছেন বিএনপির সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। রোববার রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর মেধাবী একটি শ্রেণি উঠে আসে যারা জাসদ গঠন করে। ‘‘অতিরিক্ত ভালোলাগা বা বাড়াবাড়ি করতে গিয়ে দেশ ও জাতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তারা নিজেও শেষ পর্যন্ত হারিয়েছে,’’ যোগ করেন তিনি।

অধিবেশনটি স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। মনিরুল হক চৌধুরী বেগম খালেদা জিয়ার নাম স্মরণ করে বলেন, ১৯৯১-এর সংসদে তিনি দলের সদস্যদের সঙ্গে কাজ করেছেন এবং দেশনেত্রী হিসেবে খালেদা জিয়ার অবদানকে উপেক্ষা করা ঠিক নয়। তিনি বলেন, ‘‘আপনারা যখন প্রশ্ন করেন মনে হয় গত ১৫-২০ বছর বিএনপি এই দেশে ছিল না। বেগম খালেদা জিয়া নানা প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে জামায়াতের সঙ্গে কাজ করেছেন—রাজনীতিকে এ পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার পেছনে তারও ভূমিকা রয়েছে, সেটুকু স্মরণ করুন।’’

তিনি আরো বলেন, সংসদে দাঁড়িয়ে কখনও কখনও বলবো কী—এই ভয় কাজ করে। আগে যাদের বিরুদ্ধে কথা বলতাম তাদের চিনতাম, কিন্তু আজ যারা বিরোধী দল তাদের চেনাই কষ্টসাধ্য। দলের নেতা তারেক রহমান যে ‘কঠিন নির্বাচন’ সম্পর্কে বলেছিলেন, তখন অনেকে বুঝতে পারেননি; পরে নির্বাচনের অভিজ্ঞতায় তাদেরই কথার সঠিকতা বোঝা গেছে।

মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, এত সংখ্যক সদস্য নিয়ে সংসদে আসার পর আমরা যে বিষয়গুলো আলহামদুলিল্লাহ বলে ভাবতাম, তাদের মধ্যে এক হওয়া উচিত ছিল জামায়াতে ইসলামী। তবু আজ আমাদের সম্পর্কে এমন প্রশ্ন উঠছে—কিছু জীবিত মুক্তিযোদ্ধাদের নির্ধারণ নিয়ে প্রশ্ন করা হচ্ছে, মুক্তিযুদ্ধ ও ‘‘২৪’র যুদ্ধ’’কে এক কাতারে দেখা হচ্ছে কি না—এ ধরনের আলোচনা চলছে। যদি ফ্যাসিস্ট শাসনের সময়ে বিচারের নামে অন্যায় হয়ে থাকে, তা আলাদা বিষয়; এই প্রশ্নগুলো নিয়ে সময় ও হিসেব করা উচিত।

শেষে তিনি জামায়াত ও এনসিপির প্রেক্ষাপটে বলেন, স্বাধীনতার পরের প্রজন্ম, যদিও বয়সে তরুণ, তাদের সাহসও আছে এবং সেই সাহসকে শ্রদ্ধা করা উচিত।