ঢাকা | শনিবার | ২৫শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১১ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

মনিরুল হক চৌধুরী: জামায়াত-এনসিপি নিয়ে প্রশ্ন, খালেদা জিয়ার অবদান স্মরণ করুন

জাতীয় সংসদে জামায়াত ও এনসিপি নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিএনপি সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী বলেছেন, স্বাধীনতার পরে এক মেধাবী শ্রেণি এসেছিল যারা জাসদ (জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল) গঠন করেছিল; কিন্তু অতিরিক্ত রাজনৈতিক চালসিকতার ফলে দেশ-জাতি অনেক কিছু হারিয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘আমাদের যেন সবকিছুকে সহ্য করার ধৈর্য ও শক্তি দেওয়া হয়।’’

রোববার সংসদের রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব আলোচনায় অংশ নেয়ার সময় এসব কথা বলেন তিনি। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

মনিরুল হক চৌধুরী খালেদা জিয়ার ভূমিকাও স্মরণ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘‘৯১ সালের সংসদে আমি আপনার সঙ্গে কাজ করেছি, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে। অনেকেই যখন প্রশ্ন করছেন, মনে হয় এই দেশে ১৫–২০ বছর বিএনপি ছিল না। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া অসংখ্য প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করেও জামায়াতের সঙ্গে কাজ করেছেন। আজ রাজনীতিকে যেখানে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে, তার পেছনে তারও একটা অংশ আছে—এইটুকু স্মরণ করলেই কিন্তু খারাপ হয় না।’’

তিনি আরও উল্লেখ করেন, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে ইতিহাস ও ঘটনাবলীর প্রেক্ষাপট বিচার করার বুদ্ধি সবারই আছে। অতীতের রাজনৈতিক স্তরের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘‘জাসদ একসময় আওয়ামী লীগের প্রতিপক্ষ ভাবত—তাই ইতিহাস কীভাবে গড়িয়েছে তা বিবেচনা করা প্রয়োজন।’’

পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মনিরুল হক বলেন, সংসদে দাঁড়িয়ে এখন কী ভাষায় কথা বলব—এ কথা ভাবতে হয়। আগে যাদের বিরুদ্ধে দাঁড়াতাম, তাদের চিনতাম; কিন্তু আজকের বিরোধীদলকে এখনও আমি ঠিকভাবে চিনিনি। তারেক রহমানের কথাও স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘‘আমাদের নেতা সতর্ক করেছিলেন—কঠিন নির্বাচন আসবে। তখন অনেকেই তা বুঝেনি, কিন্তু পরে অংশ নিয়ে আমরা উপলব্ধি করেছি কত কঠিন পথ পেরোতে হয়েছে।’’

সংসদে এসে তিনি অভিযোগ করেন যে এত সংখ্যক সদস্য নিয়ে আসার পর প্রকৃত কৃতজ্ঞতার যোগ্য হিসেবে যে কোন দলকে ধরা উচিত—তাতে জামায়াতে ইসলামীও অন্তর্ভুক্ত ছিল। একই সঙ্গে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন যে কিছু জীবিত মুক্তিযোদ্ধার সম্পর্কে আজ অনাকাঙ্ক্ষিত প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘‘মুক্তিযুদ্ধকে অন্য কোনো সময়ের সংঘাতের সঙ্গে এককাতারে ধরা যায় কি?’’ এবং বলেন, যদি ফ্যাসিস্ট শাসনের সময়ে বিচার বলে অন্যায় হয়ে থাকে, তা আলাদা বিষয়—তার বিচার হওয়া উচিত।

শেষে মনিরুল হক চৌধুরী মন্তব্য করেন, জামায়াত বা এনসিপির নেতা যদিও স্বাধীনতার পরে বয়সে ছোট হতে পারে, তবুও তাদের প্রতি তিনি শ্রদ্ধাশীল কারণ তাদের মধ্যে সাহস আছে এবং তারা এই সময়ের চাহিদা মেটাতে সক্ষম।