ঢাকা | শনিবার | ২৫শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১১ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান: বাংলাদেশ আধিপত্য মেনে নেবে না, জাতি অতীতের বোঝা ঝেড়ে ফেলেছে

সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশ আর কোনো বাহ্যিক আধিপত্য মেনে নেবে না এবং অতীতের অন্যায়-অবহেলাসহ যে বোঝা ছিল, তা জাতি ঘাড় থেকে ফেলেছে। তিনি বলেন, ‘চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা আমাদের দেশকে দখলমুক্ত করেছেন। এখন আমাদের যুবসমাজ মাথা উঁচু করে বাঁচতে চায়।’

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকালে মিরপুর-১৫ এর বাসিন্দাদের মাঝে চীনের সহযোগিতায় ফুডপ্যাক বিতরণ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন ডা. শফিকুর রহমান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি بودند বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।

বক্তব্যের শুরুতেই তিনি চীনা রাষ্ট্রদূতকে ধন্যবাদ জানান এবং চীনকে বাংলাদেশের অন্যতম বড় ও আন্তরিক উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে অভিহিত করেন। ১৯৭৬ সালে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক স্বীকৃতির পর থেকে চীন বিভিন্ন বড় অবকাঠামো নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে—যেমন মিরপুর ইনডোর স্টেডিয়াম ও চীন-বাংলাদেশ মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র। ডা. শফিকুর বলেন, এসব স্থাপনা চীনের অকৃত্রিম বন্ধুত্বের চিহ্ন, কিন্তু গত কোনো ফ্যাসিস্ট শাসনামলে এসব নিদর্শন হাইজ্যাকও হয়েছিল।

চীনকে প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘‘চীন এমন একটি দেশ যারা বাংলাদেশীর অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করেনি। অন্যদিকে অনেকে কিছু না দিয়ে সব নিয়ে যায় বা সময়ে সময়ে আবদ্ধ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে। চীন অবিচল, সত্যিকার বন্ধু হিসেবে কাজ করছে।’’

তিনি আশা প্রকাশ করেন যে তিস্তা নদী নিয়ন্ত্রণ ও উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে ভবিষ্যতে চীন আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখবে। তিনি বলেন, ‘‘তিস্তা প্রকল্পটি উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের বেদনা; এই বেদনার অবসান আমরা চাই। অতীতে কেন এটি পারেনি, তা তো শিশুরাও বুঝে—আমরা আর সেই লেগ্যাসি বহন করতে চাই না।’’

অনুষ্ঠানে ডা. শফিকুর রহমান আরও জানান, চীন ইতিমধ্যে বাংলাদেশে এক হাজার বেডের দুটি হাসপাতাল নির্মাণ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য একটি বিশাল হল নির্মাণের ঘোষণা ও বাজেট বরাদ্দ করেছে। তিনি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য একটি ‘পাইলট প্রজেক্ট’ শুরু করতে চীনা রাষ্ট্রদূতকে বিশেষ আহ্বান জানান।

মিরপুরবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘‘আমি আপনাদেরই একজন—এই এলাকা আমার নিজের ঘর। সরকার বা বন্ধু রাষ্ট্র থেকে যা কিছু আসবে, তা আমানত হিসেবে আপনাদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে। এর বাইরে আমরা ব্যক্তিগতভাবে ও সংগঠনিকভাবে আপনাদের পাশে থাকার চেষ্টা করব।’’

অনুষ্ঠানে চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন দুস্থদের হাতে সরাসরি ফুডপ্যাক তুলে দেন। অনুষ্ঠানে জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের স্থানীয় নেতারা, বিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ এবং স্বেচ্ছাসেবীরা উপস্থিত ছিলেন। শৃঙ্খলা বজায় রাখতে স্বেচ্ছাসেবকরা প্রতি আসনে উপহার সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন।