ঢাকা | শনিবার | ২৫শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১১ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ইরান ৫০০ জন গ্রেপ্তার করেছে

ইরানের পুলিশ ৫০০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে বলে জানিয়েছে দেশটির পুলিশ প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমাদরেজা রাদান। তিনি গতকাল আধাসরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিমকে বলেছেন, গ্রেপ্তারকার্য মূলত গোপনে বিদেশি গোয়েন্দা তথ্য পাঠানোর অভিযোগে করা হয়েছে।

রাদানের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারদের মধ্যে অন্তত ২৫০ জনকে বিশেষভাবে লন্ডনভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল ইরান ইন্টারন্যাশনালকে তথ্য সরবরাহ করার অভিযোগে আটক করা হয়েছে। বাকি গ্রেপ্তারদের মধ্যে কয়েকটি আন্ডারগ্রাউন্ড সন্ত্রাসী গ্যাংয়ের সদস্যরাও রয়েছেন; তারা নাশকতা, উসকানি ছড়ানো ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে সহিংসতা ভাড়িয়ে দেওয়ার কাজে যুক্ত ছিল বলে দাবি করেছেন পুলিশ সূত্র।

ইরান ২০২২ সালে লন্ডনভিত্তিক ইরান ইন্টারন্যাশনালকে ‘সন্ত্রাসী সংস্থা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে এবং দীর্ঘদিন ধরেই এই চ্যানেলটিকে সরকারবিরোধী প্রচারণা ও ভুয়া তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে লক্ষ্য করে আসছে। তাসনিমে দেওয়া বক্তব্যে রাদানও ইরান ইন্টারন্যাশনালের বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগের কথা উল্লেখ করেছেন।

এই গ্রেপ্তার অভিযানকে চলমান অঞ্চলে উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে দেখা হচ্ছে। সংবাদে বলা হয়েছে, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে পারমাণবিক বিষয়ক সংলাপ ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২১ দিন চলার পর কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়। ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সমন্বয়ে কিছু সামরিক অভিযান চালায়—যুক্তরাষ্ট্র ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ এবং ইসরায়েল ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ নাম দেয়।

এর জবাবে ইরান একাধিকবার মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের ছয়টি দেশ (সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমানে) অবস্থিত মার্কিন সেনাঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে, যা এখনও চলমান রয়েছে। একই সংঘর্ষে ইরানে নিহত হয়েছেন অনেক মানুষ; আনুষ্ঠানিক সূত্র বলেছে সংখ্যা ১ হাজার ৩০০ ছাড়িয়ে গেছে।

ইরানের পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার অভিযান ও তদন্ত চলমান আছে এবং আরও তথ্য প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এই প্রতিবেদনটির উৎস: আনাদোলু এজেন্সি এবং তাসনিম নিউজে প্রকাশিত বিবরণ।