ঢাকা | শনিবার | ২৫শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১১ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

ইরানে আবার শুরু হয়েছে জেন-জি বিক্ষোভ

ইরানে আবারও জেন-জি বিক্ষোভ দেখা দিয়েছে, যদিও এই সময় দেশে পরমাণু প্রকল্প নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চলছে। রাজধানী তেহরানে গতকাল রোববার দ্বিতীয় দিন ধরে চলে চলমান এই বিক্ষোভ, সমাবেশ ও মিছিল। সাধারণ জনগণের অংশগ্রহণে এই আন্দোলন আরও জোরদার হয়ে উঠছে।

একটি প্রতিবেদনে এএফপি জানিয়েছে, দীর্ঘ ডিসেম্বর-জানুয়ারি বিক্ষোভের চাপে নিহত মানুষের স্মরণে এবং রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে শাস্তির দাবি নিয়ে নতুন করে বিক্ষোভ শুরু করে তরুণ প্রজন্মের অংশ। সেই আন্দোলনের পাল্টায় সরকারও পক্ষ নিয়ে মিছিল ও সমাবেশ করে প্রতিবাদ জানিয়েছে।

ফার্স নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরানের তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ে এই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। এর মধ্যে শরিফ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন আন্দোলনের কেন্দ্রস্থলে রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, শিক্ষার্থীরা পতাকা হাতে নানা স্লোগান দিচ্ছেন এবং রাজতন্ত্র ফেরানোর দাবিও উপস্থিত করছে।

আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির দিকে তাকালে দেখা যায়, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ফলে ইরানের অর্থনীতি ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশের মুদ্রা ইরানি রিয়াল এখন বিশ্বের অন্যতম দুর্বল মুদ্রা। অর্থনৈতিক চাপের কারণে জীবনে দুর্দশা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যার প্রতিবাদে ডিসেম্বরের শেষে ব্যবসায়ী ও দোকান মালিকরা আন্দোলনে নামে। কিন্তু ঈর্ষাকরভাবে, এই আন্দোলন দ্রুত সরকারবিরোধী প্রবণতায় পরিণত হয় এবং দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে।

প্রথম দিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই আন্দোলনে সমর্থন জানান এবং ইরানে সামরিক পদক্ষেপেরও ইঙ্গিত দেন। তবে দ্রুত তিনি নজর দেন- ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে নতুন হুমকি দিতে। ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে এই ব্যাপারে আলোচনা শুরু হলেও, এর মাঝামাঝি সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি আরও বাড়িয়ে দেয়।

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভকে কঠোর দমন করে চলে ইরানের সরকার। সরকারি সূত্র বলছে, পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে মারা গেছে প্রায় ৩ হাজারের বেশি মানুষ। অন্য একটি মানবাধিকার সংস্থা বলছে, নিহতের সংখ্যা এই চেয়ে অনেক বেশি। তবে, বিভিন্ন সূত্রের নিজেদের মতে, ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে প্রায় ১৫,০০০ মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।