ঢাকা | রবিবার | ২৬শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১২ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

ফেব্রুয়ারির ১৮ দিনেই রেমিট্যান্স ছাড়ালো দুটি বিলিয়ন ডলার

প্রবাসীরা দেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও আসন্ন পবিত্র রমজান মাসের কারণে অধিক অর্থ পাঠাচ্ছেন। এর ফলে, চলতি ফেব্রুয়ারির প্রথম ১৮ দিনে দেশে রেমিট্যান্সের পরিমাণ reaching 2 বিলিয়ন ডলার বা ২০০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে। যদি এই ধারাবাহিক প্রবাহ বজায় থাকে, তাহলে মাসের শেষের দিকে এর পরিমাণ ৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশা করছে অর্থনীতিবিদরা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্বাচন ও রমজানের সময় পরিবারের খরচ বাড়ানোর জন্য প্রবাসীরা বেশি করে অর্থ পাঠাচ্ছেন। এর এই ধারাটি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুসারে, জানুয়ারিতে প্রবাসীরা দেশে ৩১৭ কোটি ডলার বা ৩.১৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পাঠিয়েছেন। এটি দেশের ইতিহাসে তৃতীয় বৃহত্তম মাস হিসেবে আখ্যায়িত হয়েছে। এর আগে, ডিসেম্বরে ৩২২ কোটি ডলার পাঠানো হয়েছিল, যা ছিল দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। সর্বোচ্চ রেকর্ড ছিল গত মার্চে, যখন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ৩২৯ কোটি ডলার প্রেরণ করা হয়েছিল।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মোট রেমিট্যান্সের প্রবাহের দিক থেকে দেখা যায়, ২০২৫ সালে দেশে মোট প্রবাসী আয়ের পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ২৮২ কোটি ডলার। মাসভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, জুলাইয়ে ২৪৭ কোটি ৭৮ লাখ, Augustে ২৪২ কোটি ১৯ লাখ, সেপ্টেম্বর ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ, অক্টোবর ২৫৬ কোটি ৩৫ লাখ, নভেম্বর ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ, ডিসেম্বরে ৩২২ কোটি ৬৬ লাখ এবং জানুয়ারিতে ৩১৭ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছে।

১৮ ফেব্রুয়ারির পর্যন্ত, এই অর্থবছরে প্রবাসীরা মোট ২ হাজার ১৫৬ কোটি ডলার পাঠিয়েছেন, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২২% বেশি। তৎসহ, বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, ১৭ ফেব্রুয়ারির পর্যন্ত দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৪.৫৪ বিলিয়ন ডলার। তবে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (IMF) অনুযায়ী, প্রকৃত রিজার্ভের পরিমাণ ২৯.৮৬ বিলিয়ন ডলার।

বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই প্রবাসীদের আয়ে গতি ফিরে এসেছে। ব্যাংক খাতের কর্মকর্তারা বলছেন, অবৈধ হুন্ডি ব্যবসা কমে যাওয়ায় এবং ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলার বিনিময় হার স্থিতিশীল থাকায় প্রবাসীরা বৈধ পথে অর্থ পাঠাতে উৎসাহিত হয়েছেন।