ঢাকা | শনিবার | ২৫শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১১ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

এশিয়ায় মার্কিন যুদ্ধবিমানদের উপস্থিতি বাড়ল প্রশান্ত মহাসাগরে রণতরীর পর

আমেরিকা-ইরান পারমাণবিক চুক্তি এখনো অনেক দূর। দুই দেশের মধ্যে দ্বিতীয় দফা আলোচনা অনুষ্ঠিত হলেও কোনও স্পষ্ট সমাধান আসেনি। এর মধ্যেই পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন সামরিক কার্যকলাপ নতুন করে বেড়ে গেছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের নির্দেশে।সূত্রের খবর, এই অঞ্চলে এখন কার্যত ৫০টির বেশি মার্কিন যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়েছে। তবে কেন এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সে সম্পর্কে মার্কিন সরকার এখনও কিছু জানাননি।গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পশ্চিম এশিয়ায় ইরানের কাছাকাছি মার্কিন যুদ্ধবিমানদের উপস্থিতি কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে খবর প্রকাশ করছে সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস। তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, এফ-১৬, এফ-২২ এবং এফ-৩৫ সহ আরও অনেক উন্নত যুদ্ধবিমান এই অঞ্চলটিতে মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া, আরও কিছু উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন যুদ্ধবিমান পশ্চিম এশিয়ার জন্য পাঠানো হয়েছে।দিন কয়েক ধরে পশ্চিম এশিয়া সংলগ্ন সমুদ্রে মার্কিন পুলিশের উপস্থিতি ও শক্তি প্রর্দশন বেড়েই চলছে। ডিসেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে দক্ষিণ চীন সাগর থেকে শুরু হয়েছিল মার্কিন বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনের অভিযাত্রা। এটি নিমিটজ-শ্রেণির একটি রণতরি, যার সঙ্গে রয়েছে তিনটি আর্লে বার্ক-শ্রেণির ডেস্ট্রয়ার। এই মুহূর্তে, এই সমস্ত জাহাজগুলো ইরানের উপকূল থেকে খুব কাছাকাছি অবস্থান করছে। এর পাশাপাশি, দক্ষিণ আমেরিকা উপকূলে মোতায়েন আরও একটি মার্কিন বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ডও পশ্চিম এশিয়ার উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। মার্কিন শক্তির এই প্রভাব বিস্তার চলাকালীন, ইরান পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে। হরমুজ প্রণালীতে ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়ে দেওয়া হয়েছে, যা পর্যবেক্ষকদের উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। ঘটনাচক্রে, হরমুজ প্রণালী এখনো মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন-সহ বেশ কয়েকটি রণতরীর উপস্থিতিতে ঘিরে রয়েছে। ইরানের দাবি, এই ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ পরীক্ষা মাত্র, তবে অনেকের মনে সন্দেহ রয়েছে, এটি হয়তো ‘প্ররোচনামূলক’ পদক্ষেপ হতে পারে।এই উত্তেজনা চলাকালীন, আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে, বৈঠকের ফলাফল নিয়ে বেশ অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেভি ভান্স জানিয়েছেন, ইরান তাদের মূল দাবিগুলিকে মানতে ব্যর্থ হয়েছে। অর্থাৎ, ইরান এখনো আমেরিকার শর্তগুলোর সঙ্গে সম্মতি দিতে প্রস্তুত নয়। অন্যদিকে, ওয়াশিংটন দাবি করেছে, তারা ইরানের জন্য আরও দু’সপ্তাহ সময় extending করতে রাজি। তবে, ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দ্বিতীয় দফার আলোচনা ভবিষ্যতের জন্য ধারণা দিচ্ছে, এবং শিগগিরই পারমাণবিক চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার কোনও সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।