ঢাকা | শনিবার | ২৫শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১১ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

ঢালিউডের ‘ডান্সিং হিরো’ ইলিয়াস জাভেদ আর নেই

ঢালিউডের সোনালী দিনের চিত্রনায়ক ও ইতিহাসের অন্যতম নৃত্যশিল্পী ইলিয়াস জাভেদ আর নেই। দীর্ঘ দিন মারণ রোগ ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করার পর ৮২ বছর বয়সে আজ তিনি না ফেরার দেশে পাড়ি জমান (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্য সনি রহমান। ১৯৪৪ সালে ব্রিটিশ ভারতের পেশাওয়ারে জন্মগ্রহণ করেন ইলিয়াস জাভেদ। পরবর্তীতে সপরিবারে পাঞ্জাবে চলে গেলেও জীবনের কোনো এক সময়ে তিনি ঢাকার চলচ্চিত্র অঙ্গনে চলে আসেন।

জানা গেছে, জাভেদ ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন এবং বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। গত বছরের এপ্রিলেও হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন তিনি। আজ সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

সংবাদমাধ্যমকে নিহতের স্ত্রী ডলি চৌধুরী বলেন, ‘‘আজ সকালে তার শারীরিক অবস্থা খুব খারাপ হয়ে যায়। কিছুদিন ধরেই হাসপাতাল থেকে দুই নার্স বাসায় এসে তার চিকিত্সা করছিলেন। আজ সকালে নার্সরা জানায়, তাঁর সারা শরীর ঠান্ডা হয়ে গেছে। এরপর অ্যাম্বুলেন্স ডেকেছি এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’’

ইলিয়াস জাভেদের চলচ্চিত্র জীবনের শুরু নাচ পরিচালনা থেকেই। নায়ক হিসেবে তিনি রুপালি পর্দায় অভিষেক ঘটান ১৯৬৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত উর্দু চলচ্চিত্র ‘নয়ী জিন্দেগি’ দিয়ে। ১৯৬৬ সালে ‘পায়েল’ সিনেমার মাধ্যমে তিনি বড় পর্দায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলেন; এই ছবিতে তার বিপরীতে ছিলেন কিংবদন্তি অভিনেত্রী শাবানা। পরিচালক মুস্তাফিজই তাকে ‘জাভেদ’ নামে পরিচিতি দেন।

পরে একের পর এক ব্যবসাসফল ছবিতে অভিনয় করে তিনি দর্শকদের হৃদয়ে ‘ডান্সিং হিরো’ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। ব্যক্তিগত জীবনে ১৯৮৪ সালে তিনি জনপ্রিয় অভিনেত্রী ডলি চৌধুরীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। আসল নাম রাজা মোহাম্মদ ইলিয়াস; ক্যারিয়ারে তিনি শতাধিক ছবিতে অভিনয় করেছেন।

সত্তর ও আশির দশকের দর্শকদের কাছে ইলিয়াস জাভেদ মানেই ছিল ঝকঝকে নাচ ও তীব্র অ্যাকশনের মেলবন্ধন। তার অবদানে বাংলা চলচ্চিত্রের একটি বিশেষ অধ্যায় গড়ে উঠেছিল, এবং তার প্রয়াণে সেই অধ্যায়টির স্মৃতি আরও গভীর হলো।

জাভেদ অভিনীত কিছু উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র: মালেকা বানু, নিশান, পাপী শত্রু, রক্ত শপথ, সাহেব বিবি গোলাম, কাজল রেখা, অনেক দিন আগে, আজও ভুলিনি, কঠোর, মা বাবা সন্তান, রাখাল রাজা, রসের বাইদানী, জীবন সঙ্গী, আবদুল্লাহ।

তাঁর মৃত্যুর খবর চলচ্চিত্র অঙ্গনে গভীর শোক সৃষ্টি করেছে। প্রিয় শিল্পীর প্রতি অনুস্মৃতি ও শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে পরিবার ও শোকসন্তপ্ত প্রতি প্রতি জণকে সমবেদনা জানাচ্ছি।