ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ২৩শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৬ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

ঢালিউডের ‘ড্যান্সিং হিরো’ ইলিয়াস জাভেদ মারা গেলেন

ঢালিউডের সোনালী দিনের জনপ্রিয় নায়ক ও কালজয়ী নৃত্যশিল্পী ইলিয়াস জাভেদ আর নেই (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। দীর্ঘসময় ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে ৮২ বছর বয়সে আজ সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ইন্তেকাল করেন তিনি।

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্য সনি রহমান গণমাধ্যমকে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। ১৯৪৪ সালে ব্রিটিশ ভারতের পেশাওয়রে জন্ম নেন ইলিয়াস জাভেদ। পরে সপরিবারে পাঞ্জাব চলে গেলেও পরবর্তীকালে তিনি ঢাকার চলচ্চিত্র অঙ্গনে কাজ শুরু করেন।

জানানো হয়েছে, বেশ কয়েক বছর ক্যানসারে ভুগছিলেন জাভেদ; পাশাপাশি বিভিন্ন শারীরিক জটিলতাও ছিল। গত বছরের এপ্রিলে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন তিনি। কয়েক দিন ধরে বাড়িতেই চিকিৎসাসেবা চলছিল; হাসপাতালে তখন চিকিৎসক ও দুই নার্স এসে তাঁর দেখাশোনা করছিলেন। জাভেদের স্ত্রী ডলি চৌধুরী সংবাদমাধ্যমকে বলেন, আজ সকালে তাঁর স্বামীর শারীরিক অবস্থার তীব্র অবনতি হয়। দুই নার্স এসে জানায় শরীর পুরো ঠান্ডা হয়ে গেছে, এরপর অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

অভিনয় ও নৃত্যের সাথে শুরু থেকেই নিবিড় সম্পর্ক ছিল জাভেদের। তিনি zunächst নৃত্য পরিচালনায় ক্যারিয়ার শুরু করেন এবং পরবর্তীতে নায়ক হিসেবে জনপ্রিয়তা পান। ১৯৬৪ সালে উর্দু সিনেমা ‘নয়ী জিন্দেগি’ দিয়ে নায়ক হিসেবে রুপালি পর্দায় অভিষেক ঘটলেও প্রকৃতভাবে খ্যাতি আসে ১৯৬৬ সালের ‘পায়েল’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে, যেখানে বিপরীতে ছিলেন শাবানা। পরিচালক মুস্তাফিজই তাকে ‘জাভেদ’ নামে পরিচিত করে তোলেন।

জাভেদ অভিনয় করেছেন শতাধিক ছবিতে এবং সত্তর-আশির দশকে দর্শকদের মনে তিনি ছিলেন নাচ-অ্যাকশনের এক অনবদ্য মিশ্রণ। ব্যক্তিগত জীবনে ১৯৮৪ সালে তিনি বিয়ে করেন চিত্রনায়িকা ডলি চৌধুরীকে।

জাভেদের কিছু উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র: মালেকা বানু, নিশান, পাপী শত্রু, রক্তশপথ, সাহেব বিবি গোলাম, কাজল রেখা, অনেক দিন আগে, আজও ভুলিনি, কঠোর, মা-বাবা সন্তান, রাখাল রাজা, রসের বাইদানী, জীবন সঙ্গী ও আবদুল্লাহ।

ইলিয়াস জাভেদের মৃত্যু বাংলা চলচ্চিত্রের একটি অধ্যায়ের শেষচিহ্ন, অনেকেই তাঁর চলে যাওয়াকে বাংলা সিনেমার ভাণ্ডারের বড় ক্ষতি হিসেবে দেখছেন। শুভেচ্ছা ও শ্রদ্ধায় স্মরণ করছেন সহশিল্পী ও অনুরাগীরা।