ঢাকা | রবিবার | ২৬শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১২ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

ঢালিউডের ‘ড্যান্সিং হিরো’ ইলিয়াস জাভেদ আর নেই

ঢালিউডের বর্ষীয়ান নায়ক ও কৃতী নৃত্যশিল্পী ইলিয়াস জাভেদ আর নেই। দীর্ঘ দিন ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে ৮২ বছর বয়সে তিনি না ফেরার দেশে চলে গেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

মৃত্যের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্য সনি রহমান। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ইলিয়াস জাভেদ নানা রকম শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন; গতবারের এপ্রিলে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। আজ সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

জাভেদের স্ত্রী ডলি চৌধুরী সংবাদমাধ্যমকে জানান, আজ সকালে তাঁর স্বামীর শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি হয়। দীর্ঘদিন ধরে বাড়িতেই চিকিৎসা চলছিল; হাসপাতালে করে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। ডলি বলেন, কয়েকদিন ধরেই হাসপাতালে এসে চিকিৎসক ও নার্সরা সেবা দিচ্ছিলেন। আজ সকালে নার্সরা এসে জানালে তার শরীর ঠান্ডা হয়ে গেছে, এরপর অ্যাম্বুলেন্সে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং সেখানে মৃত্যুর ঘোষণা দেওয়া হয়।

১৯৪৪ সালে ব্রিটিশ ভারতের পেশাওয়ারে জন্মগ্রহণ করেন রাজা মোহাম্মদ ইলিয়াস—পরিচিত নাম ইলিয়াস জাভেদ। প্রথমদিকে পরিবার পাঞ্জাবে চলে গেলেও পরবর্তীতে তিনি ঢাকার চলচ্চিত্র অঙ্গনে এসে অভিনেতা ও নৃত্যশিল্পী হিসেবে স্থান করে নেন। নৃত্য পরিচালনা করেই ক্যারিয়ার শুরু করলেও পরে নায়কের ভূমিকায় বহুল জনপ্রিয়তা পান।

তার চলচ্চিত্র জীবনের সূচনা হয় ১৯৬৪ সালে উর্দু চলচ্চিত্র ‘নয়ী জিন্দেগি’ থেকে। ১৯৬৬ সালে ‘পায়েল’ ছবিতে কিংবদন্তি অভিনেত্রী শাবানার বিপরীতে অভিনয় করে তিনি বড় পর্দায় নিজের আসন পাকাপোক্ত করেন; পরিচালক মুস্তাফিজই তাকে ‘জাভেদ’ নামটি দেন। এরপর একের পর এক ব্যবসাসফল ছবির মধ্য দিয়ে দর্শকের মনে ‘ড্যান্সিং হিরো’ হিসেবে অটল জায়গা করে নেন। ব্যক্তিগত জীবনেও ১৯৮৪ সালে তিনি জনপ্রিয় নায়িকা ডলি চৌধুরীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।

জাভেদ অভিনয় করেছেন শতাধিক চলচ্চিত্রে। সত্তুর ও আশির দশকের দর্শকদের কাছে তার পরিচয় ছিল ঝরঝরে নাচ ও অ্যাকশনের ৰোমাঞ্চকর মিশ্রণ হিসেবে। চলচ্চিত্র জীবন ও নৃত্যশৈলীর জন্য তিনি স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

তার উল্লেখযোগ্য ছবিগুলোর মধ্যে রয়েছে: ‘মালেকা বানু’, ‘নিশান’, ‘পাপী শত্রু’, ‘রক্ত শপথ’, ‘সাহেব বিবি গোলাম’, ‘কাজল রেখা’, ‘অনেক দিন আগে’, ‘আজও ভুলিনি’, ‘কঠোর’, ‘মা বাবা সন্তান’, ‘রাখাল রাজা’, ‘রসের বাইদানী’, ‘জীবন সঙ্গী’ ও ‘আবদুল্লাহ’।

ইলিয়াস জাভেদের প্রয়াণ বাংলাসিনোর একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি—বিশেষত সত্তুর-আশির দশকের ভক্তদের কাছে—এমনকি নৃত্য ও বিনোদনশিল্পের এক যুগপতিক স্মৃতি।