ঢাকা | রবিবার | ১৮ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২৯শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস: অর্থবছর শেষে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৪.৬%

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির হার প্রায় ৪.৬ শতাংশ হতে পারে বলে সম্প্রতি প্রকাশিত রিপোর্টে জানানো হয়েছে। তবে, আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এই প্রবৃদ্ধির হার আরও বেড়ে দাঁড়াতে পারে ৬.১ শতাংশে। বিশ্বব্যাংকের ঢাকার কার্যালয় থেকে বুধবার (১৪ জানুয়ারি) প্রকাশিত ‘গ্লোবাল ইকোনমিক প্রসপেক্টস’ এর জানুয়ারি সংস্করণে এই তথ্য উঠে এসেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মানুষের ভোগ্যব্যয় বৃদ্ধির পাশাপাশি মূল্যস্ফীতির চাপ কমে আসার ফলে দেশের অর্থনীতি আবার তার স্বাভাবিক গতি ফিরে পেতে পারে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৬ সালের প্রথম দিকে যদি দেশের জাতীয় নির্বাচন হয়, তাহলে রাজনৈতিক অস্থিরতা কমবে বলে প্রত্যাশা। নতুন সরকার এর ফলে কিছু ঘাটতি দূর করতে পারবে এবং অর্থনৈতিক কাঠামোগত সংস্কার করলে দেশের শিল্পখাতের শক্তি আরও বাড়বে। এই সব কারণেই বিশ্বব্যাংক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসে উন্নতি করেছে।

তবে, এই প্রত্যাশার পাশাপাশি কিছু ঝুঁকির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিকভাবে মূল্যস্ফীতি এখন লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি রয়ে গেছে, যার কারণে মুদ্রানীতিকে কঠোর ঘোষণা করায় ঋণের প্রবাহ দুর্বল হয়ে পড়ছে। এর ফলে ব্যবসা-বাণিজ্যেও কিছুটা বাধা সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়াও, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কাড়া কিছুর কারণে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও কিছু ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তবে, সরকারের খরচ বাড়ানো এবং বিনিয়োগের মাধ্যমে এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলা করা সম্ভব বলে মনে করছে বিশ্বব্যাংক।

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চলতি অর্থবছরে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি হবে ভুটানে (৭.৩%), যার পরে রয়েছে ভারত (৬.৫%), বাংলাদেশ (৪.৬%), মালদ্বীপ (৩.৯%), শ্রীলঙ্কা (৩.৫%) এবং নেপাল (২.১%)। উল্লেখ্য, পাকিস্তান এবং আফগানিস্তানের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস এখনও প্রকাশিত হয়নি।

অপরদিকে, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) জানিয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিক (জুলাই-সেপ্টেম্বর) সময়ে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি সাময়িকভাবে ৪.৫ শতাংশে পৌঁছেছে। এর আগে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়ে এই হার ছিল মাত্র ২.৫৮ শতাংশ।

বিশ্বব্যাংকের মতে, ২০২৬ সালে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি কিছুটা কমে ২.৬ শতাংশে এসে দাঁড়াবে এবং ২০২৭ সালে তা ২.৭ শতাংশে উন্নীত হতে পারে। পাশাপাশি, এ সময়ে বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতি কমে ২.৬ শতাংশের কাছাকাছি descending করবে। সংস্থাটি আরও বলেছে, আগামী এক দশকে বিশ্বের প্রায় ১২০ কোটি তরুণ কর্মক্ষম বয়সে প্রবেশ করতে যাচ্ছে। এই যুব সম্প্রদায়ের জন্য কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, ডিজিটাল ও মানবসম্পদ উন্নয়ন, পাশাপাশি বেসরকারি বিনিয়োগ আরও বাড়ানোর ওপর জোর দেয়া হয়েছে।