ঢাকা | শনিবার | ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

সালমান খান মাত্র ৬০ বছর বয়সে পা দিলেন

বলিউডের অন্যতম প্রভাবশালী ও জনপ্রিয় তারকা সালমান খান আজ (২৭ ডিসেম্বর) তাঁর ৬০তম জন্মদিন উদযাপন করছেন। এ বিশেষ দিনে তিনি জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক স্পর্শ করলেন। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা রীতি অনুসারে, এই জন্মদিন তিনি পরিবার, ঘনিষ্ঠ বন্ধুবান্ধব এবং চলচ্চিত্র অঙ্গনের নির্বাচিত কয়েকজন ব্যক্তির সঙ্গে সাবেক ব্যক্তিগত পরিসরে পানভেলের একটি ফার্মহাউসে উদযাপন করে আসছেন।

জাঁকজমকপূর্ণ বড় আয়োজনের পরিবর্তে, সালমানের এই জন্মদিনের উদযাপন অনেকটাই সরাসরি ও আন্তরিক। অতিথিদের তালিকা সচেতনভাবেই সীমিত রাখা হয়েছে, যাতে মূলত ঘরোয়া পরিবেশে মানসিক ভাবেও কাছাকাছি থাকা যায়। এতে উপস্থিত আছেন তার পরিবারের सदस्य, ঘনিষ্ঠ বন্ধুবান্ধব এবং দীর্ঘদিনের সহকর্মী পরিচালকরা। সূত্রের খবর, এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য ছিল শুধুমাত্র আড্ডা, স্মৃতিচারণা এবং আন্তরিক সময় কাটানো, বড় ধরনের কোনো আয়োজন নয়।

এছাড়াও, এই দিনটির অন্যতম আকর্ষণ হলো একটি বিশেষ নির্মিত ট্রিবিউট ভিডিও, যেখানে সালমান খানের তিন দশকের ক্যারিয়ারে তার সঙ্গে কাজ করা বিভিন্ন পরিচালক ও সহকর্মীরা ব্যক্তিগত বার্তা দিয়েছেন। তারা তাঁদের কাজের অভিজ্ঞতা, স্মরণীয় ঘটনার গল্প এবং সালমানের অভিনয়জীবনের বিবর্তন ও তার ভারতীয় সিনেমায় দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেছেন।

ভারতীয় সিনেমার হিরো হয়েও, সালমানকে ভক্তরা ‘ভাইজান’ বলে ডাকে। এটি শুধুমাত্র একটি ডাকনাম নয়, বরং তার সঙ্গে মানুষের গভীর সম্পর্কের বহিঃপ্রকাশ। তিনি যেন এক পরিবারের বড় ভাইয়ের মতো, যার মাধ্যমে অসংখ্য তরুণ ও নবাগত অভিনেতা বলিউডে প্রতিযোগিতামূলক যাত্রা শুরু করতে পেরেছেন। তার এই ভাইজান হওয়ার পেছনে প্রেম, দায়িত্ববোধ এবং আন্তরিকতা কাজ করে, যা তাকে শুধু নায়কই নয়, এক প্রজন্মের জন্য একজন দায়িত্বশীল অভিভাবকও করে তুলেছে।

এই বছরের জন্যই এটি আরও গুরুত্বপুর্ণ কারণ সালমান খান হলেন বলিউডের ‘খান’ ত্রয়ীর মধ্যে শেষ ব্যক্তিটি, যিনি ৬০ বছরে পা রাখলেন। এর আগে এই বছরই ৬০ বছর পূর্ণ করেছেন আমির খান ও শাহরুখ খান। এই মুহূর্তটি প্রতীকীভাবেই বলিউডের এক যুগের অবসান সূচক, যেখানে তিন দশকেরও বেশি সময় সিনেমার ইতিহাসে আধিপত্য বিস্তার করে কেন্দ্রীয় অবস্থান ধরে রেখেছিল। একই সঙ্গে এই ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, বয়স বাড়লেও সালমানের প্রাসঙ্গিকতা ও আবেদন অটুট রয়েছে। আর এই দিনটি যেমন তাঁর ব্যক্তিগত জীবনে এক বিশেষ উপলক্ষ, তেমনি বলিউডের ইতিহাসেও এক মহৌদ্ধব মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত হবে।