ঢাকা | সোমবার | ২৭শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৪ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১০ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

আর্জেন্টিনাকে কাঁদিয়ে মরক্কো ইতিহাস রচনা

বিশ্ব ফুটবলে নতুন এক ইতিহাস সৃষ্টি করল মরক্কো। ফিফা অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপের ফাইনালে শক্তিশালী আর্জেন্টিনাকে ২-০ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো শিরোপা জিতেছে আফ্রিকার এই দেশটি। রোববার অনুষ্ঠিত এই ফাইনালে জোড়া গোল করে দলের নায়ক হয়ে ওঠেন যুবক্ষেপ ইয়াসির জাবিরি।

১৯ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড প্রথম গোলটি করেন ম্যাচের ১২ নম্বর মিনিটে, বাঁ পায়ের নিখুঁত এক ফ্রি-কিকের মাধ্যমে। এরপর ২৯ মিনিটে ওসমান মা’আম্মার পাস থেকে দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে দ্বিতীয় গোলটি করেন তিনি। পুরো ম্যাচজুড়ে আর্জেন্টিনার রক্ষণের জন্য জাবিরি ছিলেন এক আতঙ্কের নাম।

ডমিন্যান্ট বল দখলে (প্রায় ৭০% এর বেশি) থাকলেও আর্জেন্টিনা কোনো স্পষ্ট সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। তাদের একটি শটও ছিল না গোলমুখে। বিপরীতে, মরক্কো সুযোগ পেলেই দ্রুত কাউন্টার আক্রমণে উঠে বসত। গোলরক্ষক ইব্রাহিম গোমিস বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে দলকে রক্ষা করেন।

দ্বিতীয়ার্ধে আর্জেন্টিনা মরিয়া হয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও মরক্কোর সুশৃঙ্খল রক্ষণভাগ সেই চেষ্টাকে ব্যর্থ করে দেয়। মাহের কাররিজোর একটি ফ্রি-কিক অল্পের জন্য বাইরে চলে যায়, আর একটি সম্ভাব্য হ্যান্ডবলের ঘটনায় ভিএআর চেক হলেও পেনাল্টি পায়নি তারা।

মরক্কোর কোচ মোহামেদ ওয়াহবির পরিকল্পিত রক্ষণাত্মক কৌশল এবং দ্রুত পাল্টা আক্রমণের স্ট্রাটেজি ফাইনালের মূল পার্থক্য গড়ে দেয়। শেষদিকে পরিবর্তন কৌশল কাজে লাগিয়ে ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণে রাখে মরক্কো।

এই জয়ে আফ্রিকান ফুটবলেও নতুন ইতিহাস লেখা হলো। ২০০৯ সালের পর এবারই প্রথম কোনো আফ্রিকান দল অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ জিতল।

মরক্কোর এই অভিযানে তারা গ্রুপপর্বে স্পেন ও ব্রাজিলকে হারিয়ে শীর্ষে উঠে আসে। এরপর নকআউটে দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সকে পরাজিত করে ফাইনালে পৌঁছে যান।

এদিকে, আর্জেন্টিনা সপ্তম শিরোপার আশায় খেলতে নেমেছিল, কিন্তু ইয়াসির জাবিরির ঐতিহাসিক পারফরম্যান্স সেই স্বপ্নকে ভেঙে দেয়। এমনকি এই রাতেই আরও এক নতুন তারকার ওঠানামা হলো বিশ্ব ফুটবলে।