ঢাকা | সোমবার | ২৭শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৪ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১০ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

বিএনপি ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটছে: জামায়াতের আমির

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বিএনপি পালিয়ে যাওয়া ফ্যাসিবাদের পথ ধরে হাঁটা শুরু করেছে। শনিবার (২৫ এপ্রিল) সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত সমাবেশে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, একসময় বিএনপির সঙ্গে তারা একই আন্দোলনে মিলে কাজ করেছিলেন এবং তখন তারা মজলুম্ ছিলেন। কিন্তু আজকের বিএনপিকে তিনি আওয়ামী লীগের পুরনো বর্বরত্মক দিক ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করছে বলেও আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, “আপনারা হাজার চেষ্টা করলেও আওয়ামী লীগ হতে পারবেন না; বড়জোর দুর্বল আওয়ামী লীগই হতে পারবেন। যে আওয়ামী লীগ একসময় পুরো জাতিকে সঙ্গে নিয়ে চলত, আজ আপনারা একই নীতি-আচরণ শুরু করেছেন।”

তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, পূর্বে আওয়ামী লীগ তাদের পোষ্য লাঠিয়াল বাহিনী দিয়ে সমাজের বিভিন্ন স্তরে কর্তৃত্ব কায়েম করেছিল, কিন্তু আজ সেই লাঠিয়ালদের কেউ পাশে দাঁড়ায়নি—এরা সেই স্মৃতিকে ব্যবহার করে এখন ব্যঙ্গাত্মকভাবে তৎপরতা চালাচ্ছে।

জামায়াতে আমির বলেন, রাষ্ট্রের মৌলিক জায়গায় পরিবর্তন না হলে সুশাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। সত্যিকারের স্বাধীনতার স্বাদ জনগণকে দেওয়ার জন্য যেসব সংস্কার দরকার, সেগুলোতে বিএনপি বিরোধিতা করছে—একে তিনি জাতির সঙ্গে “সুস্পষ্ট প্রতারণা” হিসেবে দেখেন। তিনি উল্লেখ করেন যে বিএনপি তাদেরই নির্বাচনী ইশতেহারভুক্ত ৩১ দফা কর্মসূচির বিরোধিতা করছে, এমনকি নিজ দলের অগোচর জ্ঞানও হারিয়ে ফেলেছে বলে মন্তব্য করেন।

শফিকুর রহমান শহীদ পরিবারের কষ্ট এবং তাদের ত্যাগের কথা গুরুত্ব দিয়ে স্মরণ করান। তিনি বলেন, যদি ওই পরিবারগুলো জীবন না দিতো, তাহলে বর্তমান ক্ষমতা কেউ উপভোগ করতে পারতো না। ক্ষমতায় যাওয়ার পূর্বেই যারা ছিলেন, তারা শহীদ পরিবারদের প্রতি যথাযথ সহমর্মিতা ও সহায়তা দেখাননি। ৫ ও ৭ আগস্টের কথা উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, তখন ক্ষমতা দাবি করা হয়েছিল, কিন্তু শহীদ পরিবারের দুঃখ-শোক তাদের স্পর্শ করেনি।

এরপর তিনি গত আন্দোলন ও দেশত্যাগ করে বিদেশে থাকা নেতাদের দেশে ফেরার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, অনেকেই যদি ওই বিপ্লব না হতো দেশে ফিরতে পারতো না। জেলের সময়ের স্মৃতি উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, কিছু নেতা জেলেই ছিলেন এবং তখন তাঁরা হতাশা প্রকাশ করতেন যে আগের পরিস্থিতি বদলানো সম্ভব হবে না—কিন্তু পরবর্তীতে ঘটে যাওয়া পরিবর্তনকে কেউ সহজভাবে ‘কোনো এক ব্যক্তির মাস্টারমাইন্ড’ বলা ঠিক নয়; এগুলো ঈশ্বরি অনুগ্রহ ও সব জাতির মিলিত ত্যাগের ফল।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আন্দোলনে প্রত্যেকের অবদান স্বীকার করা হবে, কিন্তু যারা তাদের তরি (নৌকান্য) নিয়ে ঘাটে ভিড়েছে, যারা জাতিকে মুক্তির পথ দেখিয়েছেন—তাদের সম্মান করতে শেখা উচিত। তিনি ছাত্র, শ্রমিক, মা-বোন ও পরিবারের সদস্যদের সেই ত্যাগের দৃশ্য বর্ণনা করে বলেন, সেই মুহূর্তগুলো ভুলে যাওয়া যাবে না।

সংসদে সিরিজ সমস্যা ও সংস্কার নিয়ে জামায়াতের অতীত দাবি তুলে ধরে তিনি বলেন, তারা প্রথম দিন থেকেই সংস্কার পরিষদ গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে, শপথ নিয়েছে কিন্তু অন্যরা শপথ পালন করেনি। আশ্বস্ত প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে বিএনপি-আওয়ামীফ্রন্টের বিরূদ্ধে তারা নানা বার্তা পাঠিয়েছে। বেশকিছু আইন ও অধ্যাদেশ পরিবর্তন না হলে স্বৈরাচারী শাসন থেকে রূপান্তর সম্ভব নয়—এমনকি কিছু দল আগের স্বৈরাচারী ব্যবস্থাকে একইরকম রেখে দিতে চাইছে।

তিনি অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক কয়েকদিন ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও নগরীর বিভিন্ন স্থানে বিএনপির প্রতিষ্ঠিত কিছু গোষ্ঠীর অংশগ্রহণে ছাত্রসংগঠনের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসবের প্রেক্ষিতে তিনি মনে করান যে, তারা গণভোটের সিদ্ধান্ত ও জনগণের রায়ের প্রতি অসম্মান দেখিয়েছে—এটাই ফ্যাসিবাদের লক্ষণ, বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

শেষে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তিনি এমন বাংলাদেশ চান না যেখানে মেয়েরা, ছেলে-মেয়ে নির্ভয়ে বাড়ি থেকে বের হতে পারবে না; যেখানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে খাতা-কলমের বদলে ভয়ঙ্কর অস্ত্রের দৃশ্য থাকবে। এই সংস্কৃতি বন্ধ করতে না পারলে ‘জুলাই’র дух প্রত্যাবর্তন ঘটবে এবং তখন শেষ পর্যন্ত ফ্যাসিবাদের কবর রচনা হবে। তিনি সবাইকে জনগণের রায়ের প্রতি সম্মান দেখাতে, ৭০% মানুষের রায় মেনে নিতে এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে আহ্বান জানিয়ে জানান—যদি তা না হয়, তাদের লড়াই সংসদের ভেতর এবং খোলা میدان দুটোই চলবে, ইনশাআল্লাহ।