ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ২৩শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৯ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতাকে সিদ্ধান্ত গ্রহণে জোর দিচ্ছে ইউনিলিভার বাংলাদেশ

ইউনিলিভার বাংলাদেশ দ্রুত পরিবর্তনশীল ভোক্তা চাহিদা ও স্থানীয় বাজারের বাস্তবতা বুঝতে মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতাকে ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত গ্রহণের কেন্দ্রবিন্দু করে তুলছে। কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুহুল কুদ্দুস খান দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নিয়মিত বাজার পরিদর্শন করছেন এবং সরাসরি খুচরা বিক্রেতা, পরিবেশক ও মাঠকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে তারা যে চিত্র দেখেন তা নীতিনির্ধারণে কাজে লাগাচ্ছেন।

দেশের এফএমসিজি বা নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য বাজারটির আকার বর্তমানে প্রায় ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এই বাজারের ৯৫ শতাংশের বেশি কার্যক্রম পরিচালিত হয় দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা প্রায় ১৪ লাখ মুদি দোকান, পাইকার ও স্থানীয় বিতরণব্যবস্থার মাধ্যমে। তাই কাঁচা বিক্রির ডেটার পাশাপাশি মাঠের কর্মীদের প্রতিদিনের অভিজ্ঞতা—চাহিদা ওঠানামা, রিটেইলারদের প্রতিক্রিয়া, সরবরাহঝুঁকি—বাজার বোঝার অপরিহার্য উপাদান হয়ে উঠেছে।

পরিদর্শনে রুহুল কুদ্দুস খান সরাসরি জানতে চান কোন এলাকায় কোন পণ্যের চাহিদা বাড়ছে, কোথায় সরবরাহ-বাধা সৃষ্টি হচ্ছে এবং ভোক্তাদের প্রত্যাশায় কী পরিবর্তন এসেছে। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, এসব সফরের লক্ষ্য শুধুমাত্র বিক্রির নম্বর দেখা নয়; বরং স্থানীয় বাস্তবতা ধরে ব্যবসায়িক কৌশল ও পণ্যের পরিকল্পনায় সেই অভিজ্ঞতাকে অন্তর্ভুক্ত করা। কখনো একটি পণ্যের বিক্রি কমে যাওয়ার কারণ, কখনো নির্দিষ্ট প্যাক সাইজের চাহিদা বেড়ে যাওয়া বা খুচরা বিক্রেতাদের নতুন পণ্য নেওয়ার অনাগ্রহ—এসব দিক মাঠপর্যায়ের আলাপচারিতায় স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

রুহুল কুদ্দুস খানের প্রায় তিন দশকের অভিজ্ঞতা উৎপাদন, সাপ্লাই চেইন, অপারেশন, ব্যবসায়িক রূপান্তর ও নেতৃত্বসহ ইউনিলিভারের ভ্যালু চেইনের বিভিন্ন পর্যায়ে বিস্তৃত। কোম্পানির ভাষ্য অনুযায়ী এই অভিজ্ঞতা তাকে পণ্য উৎপাদন থেকে ভোক্তার হাতে পৌঁছানো পর্যন্ত প্রতিটি ধাপের বাস্তবতা বুঝতে ও অনুধাবন করতে সাহায্য করে।

বর্তমান অর্থনৈতিক প্রতিকূলতায় ভোক্তার ক্রয় আচরণেও বদল দেখা যাচ্ছে। মূল্যস্ফীতির প্রভাব পড়ায় গ্রামীণ ও নিম্ন আয়ের এলাকায় ছোট প্যাক সাইজের চাহিদা বেড়েছে, যেখানে শহুরে কিছু অংশে প্রিমিয়াম ও বিশেষায়িত পণ্যের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। অঞ্চলভিত্তিক এসব পার্থক্য বুঝতে ইউনিলিভার মাঠপর্যায়ের তথ্যকে গুরুত্ব দিচ্ছে।

সার্বিকভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণে ইউনিলিভার প্রযুক্তিও ব্যবহার করছে। তাদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভিত্তিক বিশ্লেষণ প্ল্যাটফর্ম ‘আইকিউ নেক্সাস’ প্রতিদিনের বিক্রির ডেটা বিশ্লেষণ করে অঞ্চলভিত্তিক চাহিদা ও বাজারের প্রবণতা শনাক্তে সহায়তা করে। তবে কোম্পানির দৃঢ় বিশ্বাস, কেবল প্রযুক্তির ডেটা নয়—মাঠের মানবিক অভিজ্ঞতা ও সরাসরি কথোপকথন মিলে বাস্তব অর্থে আরও নির্ভুল সিদ্ধান্ত নেয়া যায়।

ইউনিলিভার বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতি ১০টি পরিবারের ৯টিতে প্রতিষ্ঠানটির কোনো না কোনো পণ্য নিয়মিত ব্যবহৃত হচ্ছে। বাজারে এই উপস্থিতি ধরে রাখতে প্রতিষ্ঠানটি ভোক্তার পরিবর্তিত চাহিদা বুঝতে, স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মতামত শুনতে এবং মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতাকে ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তে কাজে লাগানোর কাজ অব্যাহত রাখবে বলে জানিয়েছে।