ঢাকা | বুধবার | ২২শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৮ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

ভিডিও বিতর্কে উত্তাল শ্যামনগর: গাজী নজরুলের প্রতীকী কুশপুত্তলিকা দাহ, পদত্যাগের দাবি

সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর—কালীগঞ্জ আংশিক) আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওর বিরুদ্ধে শ্যামনগরে তীব্র প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ হয়েছে। বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলা সদরে শুরু হওয়া মিছিলটি প্রধান সড়ক ঘুরে শ্যামনগর প্রেসক্লাবের সামনে জমায়েত হয়ে সমাবেশে পরিণত হয়।

সমাবেশে অংশ নেওয়া হাজারো বিক্ষোভকারী জেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে এসে উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের অনেকের হাতে সংসদ সদস্যের ছবি ও প্রতীকী ঝাড়ু ছিল। শেষে প্রতিবাদকারীরা গাজী নজরুল ইসলামের প্রতীকী কুশপুত্তলিকা দাহ করেন এবং সংসদ সদস্যের পদত্যাগের দাবি জানান।

প্রতিবাদকারীরা নানা ধরনের স্লোগান দেয়। অংশ কয়েকটি স্লোগান ছিল— ‘ছি ছি নজরুল, লজ্জায় বাঁচি না’, ‘হই হই রই রই, বট বাহিনী গেলি কোথায়’, ‘শ্যামনগরে হবে না, বট বাহিনীর ঠিকানা’।

বক্তারা বলেন, ভিডিওটি প্রকাশের পর থেকেই জনমনে নানা প্রশ্ন ও সংশয় সৃষ্টি হয়েছে। শুরুতে ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে বানানো বলে দাবি করা হলেও পরে ওই নারীর পরিচয় সম্পর্কে conflicting তথ্য দেওয়া হয়েছে; প্রথমে এআই দাবি, পরে সংসদ সদস্য নিজেই ওই নারীকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করেন—এই অনুষঙ্গগুলোতে অসঙ্গতি রয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেন।

সমাবেশে বক্তারা ঘটনার নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত দাবি করেন। তারা বলেন, যদি বিষয়টি সুষ্ঠুভাবে তদন্ত না করা হয় তাহলে এতে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই জাতীয় সংসদের স্পিকার ও প্রধানমন্ত্রীকে হস্তক্ষেপে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান তাঁরা।

স্থানীয় নেতারা বলেন, ‘আমাদের ভোট নিয়ে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা হয়েছে’—তথ্য-প্রমাণ আদায় করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চাইছেন মানুষ। পদ্মপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমজাদুল ইসলাম বলেন, নির্বাচনের সময় জনগণ পরিবর্তনের আশায় ভোট দিয়েছে, কিন্তু এখন তাঁরা প্রতারিত বোধ করছেন; তাই নিরপেক্ষ তদন্ত ও কঠোর ব্যবস্থা অপরিহার্য। তিনি গাজী নজরুলকে শ্যামনগরে অবাঞ্চিত ঘোষণা করেন এবং স্পিকারের কাছে সংসদ সদস্যকে বরখাস্ত করার আবেদন করেন।

নাগরিক নেতা অধ্যাপক আবু সাইদ ও আশেক ইলাহী মুন্না বলেন, একজন জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের পর জনগণের আস্থাভঙ্গ হয়েছে; সত্য উদঘাটন ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। আশেক ইলাহী মুন্না জানান, প্রথমে একটি ছবি এআই দাবি করা হয়েছিল, পরে একের পর এক ভিডিও প্রকাশিত হলে সেই দাবি ওঠে না; এরপর সংসদ সদস্য নিজে একটি বিবৃতিতে ওই নারীকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী বলেছেন এবং আরও একটি ভিডিওতে ওই নারীকে স্থানীয়দের হাতে আটক দেখানোর দাবি বিস্তৃত হয়েছে।

সমাবেশে স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক ও জনপ্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন। তাদের মধ্যে ছিলেন— সোলাইমান কবির, গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদুল রহমান, পদ্মপুকুর চেয়ারম্যান আমজাদুল ইসলাম, শ্যামনগর সদর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান লিয়াকাত আলী, সাবেক উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নুরজাহান পারভীন ঝর্ণা, অধ্যাপক আবু সাঈদ ও শফিকুল ইসলাম দুলু প্রমুখ।

প্রসঙ্গত, সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো ভিডিও প্রসঙ্গে দাবি করেছেন যে ভিডিওতে থাকা তরুণী তার বৈধ দ্বিতীয় স্ত্রী এবং এটি পরিকল্পিত ব্ল্যাকমেইল ও চাঁদাবাজির অংশ; তিনি এ বিষয়ে লিখিত বক্তব্যও দিয়েছেন। অপরদিকে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় কমিটি বিষয়টি নিয়ে তথ্য সংগ্রহ ও সাংগঠনিকভাবে পর্যালোচনা করার কথা জানিয়েছে।