ঢাকা | বুধবার | ২২শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৮ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

বাণিজ্যমন্ত্রী: এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল তিন বছর বাড়ানোর আহ্বান

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের মসৃণ, টেকসই ও স্থিতিশীল উত্তরণ নিশ্চিত করতে আরও জোরালো সহযোগিতা চেয়েছেন। তিনি একই সঙ্গে এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি পর্ব তিন বছর বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছেন।

মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শনিবার (১৮ জুলাই) জাতিসংঘ সদর দফতরে অনুষ্ঠিত পৃথক বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী ইকোসকের সভাপতি ও নেপালের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত লোক বাহাদুর থাপা এবং ইকোসকের সহ-সভাপতি ও আলজেরিয়ার স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত আমর বেনজামারের কাছে সরকারের যুক্তিসম্মত এই আবেদন উপস্থাপন করেন।

মুক্তাদির বলেন, দেশটি যে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, পাশাপাশি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, জ্বালানি সংকট, সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন, জলবায়ু পরিবর্তনের বহুমাত্রিক প্রভাব এবং অন্যান্য বহিরাগত প্রতিকূলতার কারণে নির্ধারিত প্রস্তুতি পর্বটির পুরো সুবিধা বাংলাদেশ যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারেনি। এ বাস্তবতায় অতিরিক্ত সময় দেশকে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে উত্তরণকে আরও মসৃণ ও টেকসই করে তোলায় সহায়তা করবে — এটাই সরকারের অনুরোধের উদ্দেশ্য, তিনি জোর দেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর অনুরোধটি কখনোই উত্তরণ বিলম্বিত করার নয়; বরং এটি যেন একটি শক্তিশালী ও স্থিতিশীল উত্তরণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নেয়া একটি বাস্তবসম্মত ব্যবস্থা হয়। অতিরিক্ত সময় সরকারের কাছে কাঠামোগত সংস্কারগুলো সুসংহত করা, সুশাসন জোরদার করা, সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা, আর্থিক খাতকে মজবুত করা, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করা ও অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যবহার করার পরিকল্পনা রয়েছে।

বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী, জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-এর সভাপতি সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর এবং বিজিএমএ-এর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান।

ইকোসকের সভাপতি ও সহ-সভাপতি দীর্ঘমেয়াদী বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জগুলোর প্রতি আলোকপাত করে বাংলাদেশের এলডিসি থেকে মসৃণ, টেকসই ও স্থিতিশীল উত্তরণ নিশ্চিত করতে নিবিড় সহযোগিতা প্রদানের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।