ভারতের সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনের প্রথম দিনে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচি নিয়ে নয়াদিল্লি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সোমবার (২০ জুলাই) সকালে সিজেপি সংসদ ভবন অভিযানের ঘোষণা দিলে বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশ ব্যাপক লাঠিচার্জ করে। একই সঙ্গে জলকামান ও টিয়ার শেলও ব্যবহার করা হয়। দিল্লির বিভিন্ন অংশে মোবাইল নেটওয়ার্ক সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়।
পুলিশ আগে থেকেই বড় মিছিলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। পরিস্থিতি আঁচ করেই রোববার থেকেই দিল্লি জুড়ে জনসমাবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয় এবং ১৬৩ ধারা জারি করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, সংসদ অভিযান সংক্রান্ত কোনো অনুমতির আর্জি সিজেপির পক্ষ থেকে তাদের কাছে কার্যত আসেনি; তবে অনুমতি চাওয়া হলে ওরা তা দিত না বলেও জানানো হয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় সাধারণ মানুষকে বেআইনি জমায়েতে বা মিছিলে অংশ না নেওয়ার অনুরোধ করা হয়।
নিরাপত্তার কারণে সকাল থেকেই রাজীব চক, জনপথ, প্যাটেল চক, কেন্দ্রীয় সচিবালয় ও সেবা তীর্থ—এই পাঁচটি মেট্রো স্টেশন পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়। প্রায় পাঁচ হাজার পুলিশ এবং অর্ধেক ব্যাটালিয়ন আধাসেনা মোতায়েন করে যন্তর মন্তরকে ঘেরাও করে রাখা হয়। পুরো দিল্লি এলাকা ১৫টি নিরাপত্তা জোনে ভাগ করে নিরীক্ষা জোরদার করা হয়।
তারও পরও হাজার হাজার ককরোচ সমর্থক সংসদ অভিমুখে মিছিল শুরু করেন। অনশনরত সোনম ওয়াংচুকের অনুপস্থিতিতে তাঁর স্ত্রী গীতাঞ্জলী আংমো মিছিলে নেতৃত্ব দেন। বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করলে পুলিশ জমায়েত ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ করে। এই সময় রাজধানীর বেশ কয়েকটি অংশ রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়।
মিছিলে ক্যাদি দলীয় মুখপাত্র সৌরভ দাস সহ একাধিক নেতা ও সমর্থককে আটক করা হয়। পরে সৌরভ দাবি করেন, সরকারের সঙ্গে আলোচনার সুযোগ চলছিল; কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিরা দেরি করেছেন; তবুও তারা আলোচনার জন্য প্রস্তুত ছিলেন এবং এখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সরকারের ওপর নির্ভর করবে।
পরিস্থিতি প্রসঙ্গে দিল্লি পুলিশ লাঠিচার্জের অভিযোগ নিয়ে সংশ্লিষ্ট অংশে বলেছে, যন্তর মন্তরে কোনো লাঠিচার্জ বা বলপ্রয়োগের ঘটনা ঘটেনি এবং পরিস্থিতি পেশাদারিত্বের সঙ্গে সামলানো হয়েছে। তারা জনসাধারণকে গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
আন্দোলনের কেন্দ্র বিন্দু এক কঠিন দাবি—কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। দীর্ঘদিন ধরে ককরোচ জনতা পার্টি মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা নিটের প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ তুলে এই দাবি সামনে রেখে আন্দোলন করছে। ২৮ জুন থেকে যন্তর মন্তরে আমরণ অনশনে ছিলেন ৫৯ বছর বয়সি সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক; পুলিশ তাঁকে সেখান থেকে তুলে হাসপাতালে ভরতি করে। হাসপাতাল থেকে সোমবার তিনটি শর্ত দেওয়ার কথা জানিয়ে সোনম বলেছিলেন, যদি সরকারের পক্ষ থেকে কোন এক শর্ত মেনে নেওয়া হয়, তবে তিনি অনশন প্রত্যাহার করতে রাজি আছেন।
সংসদ অভিযানের সময়ের ঠিক আগেই বিক্ষোভকারী শিবিরের দাবিগুলো দিল্লির রাজনৈতিক মহলে তুমুল আলোড়ন সৃষ্টি করে। খবর পাওয়া গেছে, বেলা ১১টা ৫২ মিনিটে আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাস কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডার সঙ্গে বৈঠকে বসেন। সিজেপি জানায়, বৈঠকে তাদের মূল দাবি—ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ—ই তুলে ধরা হয়েছে।
ঘটনাচক্রে ওই দিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রাজধানীর নানা স্থানে উত্তেজনা বিরাজ করলেও পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষ স্থিতিশীল করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালিয়ে যায়। পুলিশিভাবে যে পদক্ষেপগুলো নেওয়া হয়েছে, তাতে সাধারণ মানুষকে শান্ত থাকা এবং সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।




