ঢাকা | বুধবার | ২২শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৮ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

শহরের সৌন্দর্য ও যানজট কমাতে সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনাল শহরের বাইরে নেওয়া জরুরি: কেডিএ

খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কেডিএ)-র চেয়ারম্যান এড. এস এম শফিকুল আলম মনা বলেছেন, কেডিএ একপক্ষীয় সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে চায় না; টেকসই উন্নয়নের জন্য সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত জরুরি। শহরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি, যানজট নিরসন ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনালটি মূল শহরের বাইরে নেওয়া এখন সময়ের দাবি বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় নয়—কিন্তু কর্তৃপক্ষ পর্যায়ক্রমে সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনালকে আন্তর্জাতিক মানের আধুনিক সুবিধা-সম্বলিত একটি টার্মিনালে রূপান্তরের জন্য নানা পরিকল্পনা গ্রহণ করছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে টার্মিনালে নিরাপত্তা কর্মী নিয়োগ, সিসি ক্যামেরা, পরিচ্ছন্ন কর্মী, বিশুদ্ধ পানি ও আধুনিক ওয়াশরুমসহ প্রয়োজনীয় সব সুবিধা এক ছাদের তলায় থাকবে।

রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় কেডিএ কনফারেন্স রুমে আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালের সার্বিক উন্নয়ন বিষয়ে অন্যান্যের মধ্যে সংশ্লিষ্ট সমিতির প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন কেডিএ চেয়ারম্যান। সোনাডাঙ্গা টার্মিনালের সমস্যা চিহ্নিত ও সমাধানের লক্ষ্যে কেডিএ সদস্য মোঃ ইকবাল হোসেনকে প্রধান করে একটি উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই উপ-কমিটি আগামী ১৫ দিনের মধ্যে সমস্যা নির্ধারণ করে প্রয়োজনীয় সুপারিশ দেবে।

মতবিনিময়কালে তিনি আরও বলেন, টার্মিনালের ভেতরের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, জলাবদ্ধতা দূর করা এবং যান চলাচলের রাস্তাগুলো টেকসইভাবে সংস্কার করা হবে। সাধারণ যাত্রীদের জন্য বসার পর্যাপ্ত স্থান, পরিচ্ছন্ন ও আধুনিক শৌচাগার এবং বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। বিশেষত নারী ও শিশুদের সুরক্ষায় আলাদা জোনের ব্যবস্থা রাখা হবে। এছাড়া টার্মিনালে থাকা অবৈধ দখলদারিত্ব দ্রুত উচ্ছেদ করে সম্পূর্ণ এলাকা সিসিটিভি নজরদারির আওতায় আনা হবে।

ভবিষ্যতে ই-টিকিটিং, ডিজিটাল ডিসপ্লে বোর্ড দিয়ে বাস ছাড়ার সময় সূচি প্রদর্শন শুরু করার পরিকল্পনাও রয়েছে বলেও জানানো হয়। সভায় উল্লেখ করা হয় যে, নিরাপদ ও সহজ যাত্রার নিশ্চয়তার জন্য কেডিএর পাশাপাশি পরিবহন মালিক, শ্রমিক ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদেরও একযোগে ও সচেতনভাবে কাজ করতে হবে।

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন কেডিএ সদস্য (এস্টেট) মোঃ ইকবাল হোসেন, প্রধান প্রকৌশলী কাজী মোঃ সাবিরুল আলম, পরিচালক (এস্টেট) ডা. জাকিয়া সুলতানা, পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোঃ তানভীর আহমেদ, নির্বাহী প্রকৌশলী মোরতোজা আল মামুনসহ অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। এছাড়া বাস মালিক সমিতি, পরিবহন শ্রমিক সংগঠন ও দোকান মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দও সভায় অংশগ্রহণ করেন।

সভায় আরও বলা হয় যে, খুলনা মহানগরীতে পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ হিসেবে ইলেকট্রিক বাস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে এবং এটি স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও যানজট নিরসনে সহায়ক হবে। আগামীদিনে সুষ্ঠু বাস্তবায়নের জন্য দ্রুত সমস্যা চিহ্নিত করে পরিকল্পনার দায়িত্বশীল বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।