বৃহস্পতিবার লন্ডনের ১৭তম লন্ডন-ইন্ডিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের সমাপনী অনুষ্ঠানে বলেছেন, থ্রি ইডিয়টস সিনেমা তৈরির সময় তিনি বা চিত্রনাট্যকাররা সোনম ওয়াংচুকের কথা জানতেন না। তিনি বলেন, র্যাঞ্চো চরিত্রটি সোনমের জীবনী থেকে অনুপ্রাণিত—এমন ধারণা ভুল।
বর্তমানে প্রশ্নফাঁস তদন্ত ও কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে আমরণ অনশন করছেন সোনম ওয়াংচুক। এ সময়েই চলচ্চিত্রটির ভক্ত ও সামাজিক মাধ্যমে এ নিয়ে আলোচনা তীব্র হয়েছে। সম্প্রতি সিনেমার আরেক অভিনেতা ওমি বৈদ্য (চতুর) একটি ভিডিও পোস্ট করে দাবি করেন যে র্যাঞ্চোর চরিত্রটি সোনমের জীবনী থেকে অনুপ্রাণিত। সেই ভিডিওর প্রসঙ্গে আমির বলেছেন, ‘চতুরের দাবি ভুল।’
সমাপনী অনুষ্ঠানে একজন দর্শক সোনম ওয়াংচুকের নাম তুললে আমির পুনরায় স্পষ্ট করে বলেন, ছবিটি তৈরির সময় তারা সোনমকে চিনতেন না। মুক্তির পরে যখন সনাম সম্পর্কে কথাবার্তা আসে, তখন সোনম নিজেই বিষয়টি পরিষ্কার করেছিলেন—এই কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
ঘটনার সূত্রপাত অনেক আগে। ২০০৮ সালে মুক্তির আগেই এক অনুষ্ঠানে সোনম ওয়াংচুক আমির খানের সঙ্গে প্রথম সরাসরি দেখা করেন। তখনই তিনি আমিরকে একটি প্রস্তাব দিয়েছিলেন—সিয়াচেনের অপ্রয়োজনীয় ব্যয় বন্ধ করে সেই অর্থ শিক্ষা খাতে ব্যবহার করার কাহিনি নিয়ে কোনো ছবি করা যায় কি না। সোনমের কথায়, আমির তখন আগ্রহ দেখিয়েছিলেন।
এরপর কয়েক মাসের মধ্যে সোনম ফ্রান্সে চলে যান আর ২০০৯ সালে থ্রি ইডিয়টস মুক্তি পায়। মুক্তির পর অনেকেই র্যাঞ্চোর চরিত্রের সঙ্গে সোনমের কাজের মিল দেখেন। সোনম তখন মাত্রই সরাসরি আপত্তি তোলেননি; তিনি ভেবেছিলেন সেটি হয়তো মানুষ ভুলভাবে ব্যাখ্যা করবে বা কেউ ভাববে তিনি নির্মাতাদের কাছ থেকে অর্থ দাবি করছেন।
কিন্তু পরে তিনি জানান যে কাহিনীর স্বত্ব সংক্রান্ত আইনি মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তিনি অপেক্ষা করেন এবং পরে নির্মাণ সংস্থাকে একটি চিঠি দেন—তার আগে আমিরের সঙ্গে যে আলাপ হয়েছিল সেটি উল্লেখ করে। সেদিক থেকে নির্মাতারা কোনো উত্তর দেননি এবং সোনমও বেশি প্রত্যাশা করেননি।
এই বিতর্কে আমিরের মন্তব্যটি স্পষ্ট: চলচ্চিত্র তৈরির সময় সোনমের সম্পর্কে তাদের কোনো জ্ঞান ছিল না, আর অভিনেতাদের ব্যক্তিগত দাবিও তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন। নির্মাণ ও অনুপ্রেরণার প্রশ্নটা এখনো জনমনে তর্কবির্তক বলেই থেকে যাচ্ছে।




